মঙ্গলবার,  ১৬ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৬, ১৪:৪০:১৫

পার্বত্য জেলা বান্দরবান ভ্রমণ

বান্দরবান। শত শত পাহাড় এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সব সময় চোখে পড়ে সবুজ সতেজ পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা মেঘেদের অলস ওড়াউড়ি। পাহাড়ি এলাকায় পাখিদের কলকাকলি যেন বুনো সুর তোলে। পাহাড়ের উঁচু চূড়া থেকে ঝরে পড়ে অসংখ্য ঝরনাধারা লিখেছেন ফেরদৌস জামান
 
বাংলাদেশের প্রকৃতিতে রয়েছে অসাধারণ সব বৈচিত্র্যের সমাহার। এর মাঝে পার্বত্য চট্টগ্রামের রয়েছে অবর্ণনীয় সৌন্দর্য। প্রকৃতির এ অকৃত্রিম দান দেশের মূল ভূখ-ের ১০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এর একাংশ বান্দরবান। শত শত পাহাড় এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সব সময় চোখে পড়ে সবুজ সতেজ পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা মেঘেদের অলস ওড়াউড়ি। পাহাড়ি এলাকায় পাখিদের কলকাকলি যেন বুনো সুর তোলে। পাহাড়ের উঁচু চূড়া থেকে ঝরে পড়ে অসংখ্য ঝরনাধারা। মোহিত হতে হয় ‘সাঙ্গু’র স্রোতোধারায়।
 
সাঙ্গুর পার ধরে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমিসহ অন্যদের গ্রামগুলো। সাঙ্গুর পানি পাহাড়ের ফাঁকফোকর গলে বইতে বইতে মিশেছে সাগরে। এই হলো বান্দরবানের প্রকৃতির ছোট বিবরণ। এখানে শুধু বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমীরাই নন, বিশ্বের নানা দেশ থেকে অনেক পর্যটক এসে ভিড় করেন।
 
বর্ষাকালে বান্দরবান সেজে ওঠে মনোমুগ্ধকর সাজে। প্রকৃতির এই মায়াবী টানে শহরের কোলাহল ও গতানুগতিক জীবনের রুটিন ছেড়ে দু-চার দিনের জন্য সহজেই বেড়িয়ে আসা যায়। আর বান্দরবান হতে পারে উপযুক্ত জায়গা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই লেখায় থাকছে বান্দরবান ভ্রমণবিষয়ক টুকিটাকি।
 
যা কিছু দেখার আছে বান্দরবানে
নীলগিরি
জেলা সদর থেকে পূর্ব-দক্ষিণে বান্দরবান-থানচি সড়ক ধরে ৪৭ কিমি. দূরে অবস্থিত নীলগিরি। সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা ২ হাজার ২০০ ফুট। নীলগিরি একটি উন্নত মানের রিসোর্ট এলাকা, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছে সেনাবাহিনী। এখানে অনেক কাছ থেকে মেঘ দেখার সুযোগ মেলে। এলাকাটি প্রায়ই মেঘে ঢেকে থাকে। পূর্বদিকে তাকালে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ পার্বত্য অঞ্চলের সারি সারি পর্বতশৃঙ্গ।
চাইলে যে-কেউ এখানে থেকে রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই ওখানে রুম বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। সেনাবাহিনীর পদস্থ কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে রিজার্ভেশন সহজে নিশ্চিত করা যায়। না থাকতে চাইলেও অসুবিধা নেই। দর্শনার্থীদের জন্য সারা দিনই খোলা থাকে এটি।
 
চিম্বুক পাহাড়
যাঁরা এখনো দার্জিলিং যেতে পারেননি, চিম্বুক পাহাড় তাঁদের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে। কারণ চিম্বুকে গেলে দার্জিলিংয়ের আবহের স্বাদ পাওয়া যায়।  চিম্বুক দেশের সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর মধ্যে একটি। বান্দরবান শহর থেকে সড়কপথে যেতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। এখানে একটি মিলিটারি ক্যাম্প রয়েছে।
 
শোনা যায়, আকাশ পরিষ্কার থাকলে শৃঙ্গ থেকে বঙ্গোপসাগরও দেখা যায়। চিম্বুকের বড় আকর্ষণ হলো এর আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য। যাওয়া-আসার সময়  দেখা যায়, এর সম্পূর্ণ পথ ক্রমেই উঁচুতে উঠে গেছে, আঁকাবাঁকা হয়ে তা অনেক উঁচুতে পৌঁছেছে। যখন গাড়ি চলে, তখন মনে হয় পাহাড়ের পিঠের ওপর দিয়ে চলছে সবাই। এ পথ ধরেই বাংলাদেশের সৌন্দর্য অনুধাবন করা যায় অনেকাংশে। চিম্বুক থেকে হেঁটে অল্প সময়েই যাওয়া যায় মুরংপাড়ায়। এদের সংস্কৃতি বা ভাষা সম্পর্কে একটি ধারণা মিলবে এখানে।
 
শৈলপ্রপাত ঝরনা ও বম জাতির বসতি
বান্দরবান শহর থেকে সবচেয়ে কাছের ঝরনা শৈলপ্রপাত। এটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। শহর থেকে এটি মাত্র এক ঘণ্টার পথ। চাইলেই আপনি এই ঝরনার পানিতে নিজেকে ভিজিয়ে নিতে পারেন। এর পাশেই রয়েছে বম জাতির ফারুক পাড়া, যেখানে গিয়ে দেখুন তাদের জীবনযাত্রা। এলাকাটি ঘুরেফিরে আসার সময় সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন স্থানীয়দের তাঁতে তৈরি গায়ের চাদর, কম্বল ও বিছানার চাদরসহ অনেক কিছু।
 
জাদি টেম্পল বা স্বর্ণমন্দির
শহরের সাঙ্গু সেতু পার হয়ে মাত্র কয়েক কিমি. দূরে পাহাড়ের ছড়ায় অবস্থিত এটি। শুধু বান্দরবান নয় এটি পার্বত্য অঞ্চলের দৃষ্টিনন্দন মন্দিরগুলোর একটি। এর ভেতরে রয়েছে সোনা দিয়ে নির্মিত গৌতম বুদ্ধের একটি মূর্তি। তবে সম্পূর্ণ মন্দিরটিই সোনালি রং করা। স্বর্ণ মন্দিরের পাশে দেবতা পুকুর আছে, যা স্থানীয় বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাকর।
 
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স
শহর থেকে মাত্র চার কিমি. দূরে বান্দরবান- কেরানীরহাট সড়কে অবস্থিত এটি। এর ভেতরে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা রয়েছে একটি কৃত্রিম লেক। মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স মূলত একটি শিশু পার্ক। সঙ্গে রয়েছে ছোট চিড়িয়াখানা। লেকের ওপর রয়েছে দুটি ঝুলন্ত সেতু।
 
নীলাচল
নীলাচলকে কেউ কেউ বাংলাদেশের দার্জিলিং বলে থাকেন। এর অবস্থান শহরের নিকটেই, মাত্র চার কিমি. দূরে। বান্দরবান ভ্রমণে পর্যটকেরা যেসব জায়গা ঘুরে দেখেন, তার মধ্যে নীলাচল অন্যতম।
 
থাকার জায়গা
বান্দরবানে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগে নতুন আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস গড়ে উঠেছে। সাধারণ মানের হোটেলের পাশাপাশি রয়েছে কারুকার্যখচিত বিলাসবহুল হোটেলও। সাদামাটাভাবে থাকতে দুই বেড-বিশিষ্ট কক্ষের জন্য ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আবার উন্নত মানের হোটেলগুলোতে দুই বেড-বিশিষ্ট কক্ষ ভাড়া পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
 
যেভাবে যেতে হবে
ঢাকা ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট পর পর বাস পাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে এসি বাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর  নন-এসি বাসে খরচ পড়বে ৬০০ টাকার মতো।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close