সোমবার,  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৬, ১৬:১১:২৬

খৈয়াছড়ার অপরূপ ঝরনায়

ফেরদৌস জামান
বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও দেশের উত্তর-পূর্বের সিলেট, মৌলভীবাজারেও পাহাড় টিলা রয়েছে অনেক। পাহাড়-টিলা অথবা পর্বত মানেই তার আনাচকানাচে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য ঝরনা। ঝরনার পানি মিশে যায় নদীতে। শেষে তা সাগরেই পতিত হয়। খৈয়াছড়া এমনই এক ঝরনা। চট্টগ্রাম জেলার মিরেরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়ায় এর অবস্থান। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রচারে আসা অনন্য সুন্দর এ ঝরনাটি দেখতে এখন প্রায়ই ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা।
 
আগে থেকে পরিকল্পনা ছাড়াই কোনো এক বর্ষার ভোরবেলা ট্রেনে করে প্রথমে নেমে পড়ি ফেনী রেলস্টেশনে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে লোকাল বাসে পরবর্তী গন্তব্য মিরেরসরাই বড়তাকিয়া বাজার। বাজারেই সেরে ফেলি সকালের নাশতা। মহিষের দুধের চা, সঙ্গে গরম পরোটা। দারুণ এক আয়োজনই বটে। নাশতাপর্ব শেষে মহাসড়ক ছেড়ে এক পর্যায়ে হেঁটে প্রবেশ করতে হলো গ্রাম্য পথে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন। লাইন পার হওয়ার আগেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ পাহাড় সারির বুকে অলস ভঙ্গিতে পড়ে থাকা ধবধবে সাদা বুনো মেঘ। লাউ, কুমড়া ও পটোল মাচায় ছাওয়া ক্ষেত, তার মাঝ দিয়ে আইল পথ। যেতে যেতে পথরোধ করে দাঁড়ায় এক সরু খাল। পথ পরিবর্তন করে এবার হাঁটা শুরু জল কেটে কেটে। খালের পাথুরে পথ নিয়ে যায় সেখান, যেখানে দূর থেকে কানে ভেসে আসে হরিণের ডাক। কাছেই কাঠ সংগ্রহরত এক কাঠুরিয়ার কাছে জানা যায়, অল্প কয়েক বছর আগেও ছরার পাশে অনেক হরিণ দেখা যেত। ইদানীং পর্যটকদের আনাগোনা ও হইচইয়ের কারণে আর তাদের দেখা যায় না বললেই চলে। 
 
ঝকঝকে টাটকা সবুজ লতাপাতা মাঝেমধ্যেই খালটির ওপর ঝুঁকে পড়েছে। পিচ্ছিল পথ আর খালের বুক চিরে হাঁটতে হাঁটতে একসময় পৌঁছে যাই ঝরনায়।
জানতে পেরেছি খৈয়াছড়ার কয়টি ধাপ রয়েছে। ঝরনা দেখে সঙ্গে করে আনতে তাই ছবি তুলতে ভুল হলো না মোটেও। একপর্যায়ে মাথায় ভূত চেপে বসে, এর পাশ দিয়ে ওপরে উঠে গেলে কী দেখতে পাওয়া যায়। যেই ভাবনা সেই কাজ। তবে আমার সঙ্গে একে একে অনেকেই উঠে গেল। তেমন কিছু চোখে পড়ল না। নেমে আসার আগ মুহূর্তে অন্যদের একজন কৌতূহলের বসে আরও একটু এগিয়ে  গেল। মিনিট দশ পর কানে ভেসে আসে উল্লাসিত চিৎকার। গিয়ে দেখা গেল প্রায় একই মাপের আরেকটি ঝরনাধারা। খানিক পর পাশ দিয়ে ওপরে উঠে গিয়ে ধরা পড়ল আরও একটি। এভাবে একটির পর আরেকটি ধাপে উপভোগ করার মতো জলধারা চোখে পড়ে। ছরছর শব্দে সম্মহিত খৈয়াছড়া দর্শনের আনন্দে অভিযাত্রীদের উল্লাসে ভেঙে গেল সব নীরবতা। ঝরনা মাত্রই সুন্দর। কিন্তু খৈয়াছড়ার সৌন্দর্য একেবারেই ভিন্ন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। ঝরনার অপরূপ মাধুর্যে মুগ্ধ অভিযাত্রী দল এবার পা বাড়ালাম ফিরতি পথে।
 
যেভাবে যেতে হবে
ঢাকা কমলাপুর, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও আসাদগেট শ্যামলী থেকে প্রায় সব সময়ই বাস পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বাসে চড়ে নেমে পড়তে হবে মিরেরসরাই। সেখান থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে আধা ঘণ্টার পথ বড়তাকিয়া বাজার। বাজার থেকে স্থানীয় কারও সহায়তায় এগিয়ে যেতে হবে খৈয়াছড়া। এ ছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করে যাওয়া যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে নামতে হবে ফেনী রেলস্টেশনে। ঢাকা থেকে গিয়ে খৈয়াছড়া দেখে সে দিনই ফিরে আসা সম্ভব।
 
বিশেষ সতর্কতা
ভরা বর্ষায় যাওয়া নিরাপদ নয়, কারণ এই সময় হড়কা বানের আশঙ্কা থাকে। হাঁটার সময় অতি সাবধানে চলতে হবে, কারণ পাথর ভীষণ পিচ্ছিল থাকে।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close