বুধবার,  ২০ জুন ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:০৮:০২

সবুজের হাতছানি শ্রীমঙ্গল

ফেরদৌস জামান
প্রকৃতির মায়াবী রূপের কারণে শ্রীমঙ্গল আজ বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান প্রথম সারিতে। মুক্ত প্রকৃতি ও নির্মল হাওয়া মানেই প্রথমে চলে আসে শ্রীমঙ্গলের নাম। তাই প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণবিলাসীদের কাছে শ্রীমঙ্গলের জুড়ি নেই।
 
বিশ্বের সব থেকে উন্নত মানের চায়ের একটি অংশ আমাদের দেশের শ্রীমঙ্গল থেকে রপ্তানি হয়ে থাকে। এদেশে শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। পাহাড়ি এই এলাকার মাইলের পর মাইলজুড়ে রয়েছে চা-বাগান। চা-বাগানের পাশাপাশি রয়েছে রাবার, লেবু ও আনারসের বাগান। বাংলাদেশের লেবুর চাহিদার বড় জোগানও আসে শ্রীমঙ্গল থেকে। প্রকৃতির মায়াবী রূপের কারণে শ্রীমঙ্গল আজ বিশ্বে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান প্রথম সারিতে। মুক্ত প্রকৃতি ও নির্মল হাওয়া মানেই প্রথমে চলে আসে শ্রীমঙ্গলের নাম। তাই প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণবিলাসীদের কাছে শ্রীমঙ্গলের জুড়ি নেই। আবার শ্রীমঙ্গলের আশপাশজুড়ে ও রয়েছে বেশ কিছু পর্যটনকেন্দ্র।
 
শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের আকর্ষণীয় জায়গাগুলো
লাউয়াছড়া অভয়ারণ্য
অপরূপ সুন্দর এই বন শ্রীমঙ্গল শহর থেকে আট কিমি. পূর্বে অবস্থিত। সড়কপথে শহরে যেতে বনের মাঝ দিয়েই যেতে হয়। সবুজ অরণ্যে ঢাকা পাহাড়ের ভেতর দিয়ে লিকলিকে সড়কখানি অনায়াসেই পৌঁছে দেয় শহরে। বনের ভেতর ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে একাধিক ট্রেইল। ট্রেইল ধরে সামান্য এগোলেই পাখির কিচিরমিচির শব্দে প্রাণ জুড়ে যায়। হরিণ, বনমোরগ, কাঠবিড়ালি, অজগর, গিবন , হুনুমানসহ রয়েছে নানা প্রাণী। বনের মাঝে ঘন গাছপালায় আচ্ছাদিত কিছু জায়গা রয়েছে, জনশ্রুতি মতে সেসব জায়গায় নাকি বাঘও রয়েছে। এখানকার অন্যতম সৌন্দর্য হলো ঢাকা-সিলেট রেলপথ। বনের দীর্ঘ অংশের মাঝ দিয়ে এগিয়ে গেছে এই রেলপথ। পথটি ধরে ইচ্ছেমতো খানিকক্ষণ হাঁটতে সবারই ভালো লাগবে।
 
চা-শ্রমিকপল্লী
দেশের চা-বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। এসব চা-বাগানের শ্রমিকেরা প্রায় সবাই বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। বর্তমানে তারা স্থানীয় জনসংখ্যার স্থায়ী অংশ হয়ে উঠেছে। আপন সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্যময় তাদের জীবন। অনাদিকালের সংস্কৃতি ধরে রেখেছে এখনো, যা অনেকের কাছেই অনুভব করার মতো। পর্যটকেরা চাইলেই ঘুরে দেখতে পারেন তাদের পল্লী বা বসতি।
 
টি এস্টেট
পর্যটকদের সুবিধার্থে শ্রীমঙ্গল চা কারখানা ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই যোগাযোগ করে রাখতে হবে। চা গবেষনা ইনস্টিটিউট হতে পারে পরিদর্শনের জন্য অন্যতম একটি জায়গা। চা প্রস্তুতের প্রণালি খুব সহজেই দেখা যাবে এখানে। শ্রীমঙ্গলে থাকার জায়গা হিসেবে টি রিসার্স ইনস্টিটিউটের ‘টি রিসোর্ট’ চমৎকার একটি জায়গা। টিলার ওপর বিশাল জায়গা নিয়ে নির্মিত রিসোর্টে রয়েছে বেশ কয়েকটি কটেজ।
 
মাধবপুর লেক
বেশ পুরোনো এ লেকটি সমতল থেকে উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব সুন্দর। তাই লেকের চারপাশটা একবার ঘুরে দেখলে তা নিঃসন্দেহে হবে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। অবশ্য পর্যটকদের কেউই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
 
শীতেশ বাবুর ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা
শীতেশ নামক স্থানীয় এক প্রকৃতি ও পশুপাখিপ্রেমী একেবারেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ছোট এ চিড়িয়াখানাটি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা দেশের একমাত্র চিড়িয়াখানা এটি। দিনে দিনে তার সংগ্রহে যুক্ত হয়েছে অনেক প্রজাতির পশুপাখি। সাদা বাঘ, বানর, সজারু, হরিণ, উল্লুক, ধনেশ পাখি, একাধিক প্রজাতির কাঠবিড়ালি এই সংগ্রহশালার অন্যতম আকর্ষণ। ভেতরে প্রবেশ করতে ১০ টাকার টিকিট নিতে হয়। শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। চাইলে হেঁটেই পৌঁছানো সম্ভব এখানে।
 
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
এদেশের উচ্চতম ঝরনাগুলোর মধ্যে মাধবকুণ্ডের স্থান প্রথম সারিতে। এর উচ্চতা প্রায় দুই শ ফুট। পর্যটকদের কেউ কেউ আনন্দে আত্মহারা হয়ে নেমে পড়েন হিমশীতল এ ঝরনার পানিতে।
 
পরীকুণ্ড জলপ্রপাত
অনেক নবীন পর্যটকের জানা নেই যে মাধবকুণ্ডের কাছেই রয়েছে আরও একটি জলপ্রপাত। এর নাম পরীকু-। মাধবকু- যেতে হাঁটাপথের মাঝামাঝি গিয়ে ডান দিকে নেমে গেছে আরেকটি পথ। পথটি ধরে নামলেই ছরা। তারপর ছরা ধরে হাঁটতে হবে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মতো। তখন সামনেই দেখা যাবে পরীকুণ্ডের অনর্গল ধারা।
 
হাকালুকি হাওর
শ্রীমঙ্গল থেকে ঘণ্টা দুয়েকের পথ। প্রায় দুই শ বর্গ কিমি. আয়তনের বিশাল জলরাশি হাকালুকি হাওর। হাকালুকির দৃশ্য অসাধারণ। এখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা। দেশের সীমানার বাইরে দূর-দূরান্ত থেকে লাখ লাখ পরিযায়ী পাখি এখানে এসে টানা কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে। পাখির কলরবে মুখর হয়ে যায় হাকালুকির প্রকৃতি। আর তা উপভোগ করতে শত শত পর্যটক ভিড় জমান এ হাওরের বুকে। 
 
শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের সহায়ক তথ্য
বাস, ট্রেন  যেকোনোভাবেই যাওয়া যাবে শ্রীমঙ্গল। তবে ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়া বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও সুরমা মেইল কমলাপুর থেকে সিলেট নিয়মিত যাতায়াত করে। সে ক্ষেত্রে নামতে হবে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে। এ ছাড়া  ঢাকার সায়দাবাদ, মহাখালী ও ফকিরেরপুল থেকে সারা দিনই বাস সার্ভিস রয়েছে। শ্যামলী, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া এই রুটে পরিচিত বাস। শ্রীমঙ্গলে রাতে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায় সহজে।
 
সাত রং চা
শ্রীমঙ্গল গেছেন, কিন্তু ওখানকার সাত রঙের চা খাননি এমন মানুষ মনে হয় কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি গ্লাসের মধ্যে স্তরে স্তরে সাজানো থাকে এ চা। চা-ভর্তি গ্লাসটি সামনে নিলে সত্যিই অসাধারণ লাগে। প্রতি গ্লাস চায়ের দাম পড়বে  ৯০ থেকে ১০০ টাকা। তাই শ্রীমঙ্গল গেলে এ চা থেকে নিজেকে বিরত না রাখাই উত্তম।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close