শুক্রবার,  ১৯ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০১৬, ১২:৫০:০৯

একদিন সুন্দরবনে ঘোরাফেরা

নীলিমা টিনা
কিছুই যখন আর ভালো লাগে না, তখন কোথাও বেড়িয়ে আসা চমৎকার এক উপায়। আর বেড়াতে যাওয়ার জায়গাটা যদি হয় সুন্দরবনের মতো কোনো এক স্থান, তবে তো সোনায় সোহাগা। সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এর আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫১ শতাংশই সুন্দরবন। এখানে আছে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৯১ প্রজাতির মাছ ও ৩১৫ প্রজাতির পাখি।
 
হীরণ পয়েন্ট
বাংলাদেশের উপকূলবর্তী পাঁচটি জেলা নিয়ে অবস্থিত সুন্দরবন। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবনে যতগুলো বৈচিত্র্যময় স্থান রয়েছে হীরণ পয়েন্ট তার মধ্যে অন্যতম।
 
হীরণ পয়েন্টে গিয়ে কাঠের তেরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখা যাবে। হীরণ পয়েন্ট ছাড়াও টাইগার পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনী, হারবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় ভাগ্যচক্রে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলেও যেতে পারে।
 
নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর হীরণ পয়েন্ট দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বরাবর প্রিয় জায়গা। ট্রেকিং, ক্যানেল ক্রুজিংসহ নানা রূপ বিনোদনের সন্ধান মেলে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে। এ ছাড়া নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরটেক প্রাচীন মন্দির, কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সেন্টার, কুমির প্রজনন, অসুস্থ হরিণের পরিচর্যা, হাজার বছরের পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষসহ প্রকৃতির অপরূপ সব দৃশ্য উপভোগ করা যায় এখানে।
 
কটকা বিচ
কটকাতে ৪০ ফুট উঁচু একটি টাওয়ার আছে, যেখান থেকে সুন্দরবনের অনেকাংশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সমুদ্রসৈকত আছে বলে টাওয়ার থেকে ফেরার সময় হেঁটে বিচের সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়। কটকা থেকে কাচিখালী পর্যন্ত প্রচুর ঘাস জন্মে বলে অনেক জীবজন্তুর আনাগোনা রয়েছে এখানে।
 
জামতলা সৈকত
কটকার কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান জামতলা। জামতলায় রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এখানে বিস্তীর্ণ ছনক্ষেতে হাজার হাজার হরিণের ছোটাছুটি দেখতে পাওয়া যায়। কচিখালী আর কটকার ঠিক মধ্যবর্তী স্থানের নাম বাদামতলা। বাদামতলা অত্যন্ত নির্জন এক সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতটি জামতলা সৈকত নামেও পরিচিত।
মংলা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে কচিখালী। কটকার জামতলা টাওয়ার থেকে কচিখালী সমুদ্রসৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালী স্টেশন পর্যন্ত হাঁটা পথ। এ পথের পাশে ঘন অরণ্যে বাঘ, হরিণ, সাপ ইত্যাদির এক ছমছম পরিবেশ রয়েছে, যা সাহসী পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর হতে পারে।
 
দুবলার চর
দুবলার চর সুন্দরবনের অন্তর্গত একটি ছোট্ট চর। এই চরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। দুবলার চর একটু ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় দর্শনার্থীরা সহজে এখানে প্রবেশ করতে পারেন না। দুবলার চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমোহিত করে। দুবলার চরের লোকসংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। অধিকাংশই পেশায় জেলে। অনেকে আবার কাঠ কিংবা বাঁশের ব্যবসাও করেন। কিছু বাসিন্দা নৌকা চালানোয় খুবই পারদর্শী। তারা পর্যটকদের নৌকায় করে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখান। এ চরের চারদিকে রয়েছে অসংখ্য সুন্দরী ও কেওড়া গাছ। যে গাছগুলো তার গভীর মায়া-মমতায় জড়িয়ে রেখেছে চরের প্রকৃতিকে। শুঁটকি মাছের জন্যও এ চর খুব বিখ্যাত। তবে এখানে, আশপাশে জলদস্যুদের প্রভাবও ব্যাপক। তাই যথাযথ নিরাপত্তা নিয়ে এখানে যাওয়া উচিত।
 
সুন্দরবনে আরও যা দেখতে পাবেন
করমজল ফরেস্ট স্টেশন, হাড়বাড়িয়া, মান্দারবাড়ীয়া, টাইগার পয়েন্ট, তিনকোনা দ্বীপ, শরণখোলা, ছালকাটা, কালীরচর, মংলা বন্দর, সাত নদীর মুখ ইত্যাদি।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close