শুক্রবার,  ২৬ মে ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৯:৫৩:২২

পার্বত্য অঞ্চল জঙ্গিদের অস্ত্রের মূল উৎস

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা দেশের পার্বত্য অঞ্চল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। তিন পার্বত্য জেলার পাশাপাশি মহেশখালীর দুর্গম পাহাড় থেকেও তারা অস্ত্র সংগ্রহ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ। গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলায় জঙ্গিরা ব্যবহার করে তিনটি একে-২২ মেশিনগান। চট্টগ্রামে আটক হওয়া জেএমবি নেতা রাসেল ও ফয়সালের কাছ থেকেও একই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। বান্দরবান সীমান্ত থেকে তাঁরা এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তদন্তে প্রাপ্ত অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দারা বলছেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সংগ্রহ করছে জঙ্গিরা। আবার গ্রেনেডসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক বানাতে দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে তারা প্রশিক্ষণও নিচ্ছে।
 
বেচাকেনার রুট
গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার ছোট হরিণা, বড় হরিণা, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক, জুরাছড়ির আন্দারমানিক, ফকিরাছড়ি, বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নারাইছড়ি, পানছড়ির দুদুকছড়ি, কেদারাছড়া, মাটিরাঙ্গা উপজেলার আচালং, রামগড় উপজেলার বাগানবাজার, বড়বিল, রামগড় বাজার, বান্দরবানের থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকাকে অস্ত্র চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
 
যেভাবে অস্ত্র কিনছে জঙ্গিরা
গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা জানায়, পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা অস্ত্র সংগ্রহ করে। এ ক্ষেত্রে পাহাড়ের কোনো বাসিন্দাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মধ্যস্থতাকারী শুধু উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়। দরদাম ঠিক করে উভয় পক্ষ। অস্ত্র কেনা হলে মধ্যস্থতাকারীকে কিছু কমিশন দেওয়া হয়।
 
জানা গেছে, হামলায় ব্যবহারের জন্য হালকা ও সহজে বহনযোগ্য অস্ত্র-বিস্ফোরক কিনছে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। বড় ও ভারী অস্ত্র আনা-নেওয়া এবং ব্যবহারের সময় ধরা পড়ার ভয় থেকেই তারা নতুন এ কৌশল নিয়েছে। অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ হামলায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহেও তারা কৌশল বদলে ফেলেছে। হাতে হাতে চালান আনা-নেওয়ার বদলে তারা এখন সাহায্য নিচ্ছে প্রযুক্তির। উচ্চমূল্যের অস্ত্র, গোলাবারুদসহ চাহিদামাফিক সরঞ্জামের অধিকাংশই বেচাকেনা চলে অনলাইনে। পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোড ব্যবহার করে তারা পণ্যের লেনদেন করছে। মিথ্যা ঘোষণা বা ঘোষণাবিহীনভাবে সেগুলো কুরিয়ার সার্ভিস ও ডাকযোগে স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। হামলাকারীদের হাতে এসব মারাত্মক অস্ত্র, গোলাবারুদ মাদক পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দলে ভিড়িয়েছে।
 
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সম্প্রতি দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দর এবং তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন আইরিন’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তাতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে অর্ডার দেওয়া অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে অধিকাংশ সময়ে নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছে। পোস্টাল বা কুরিয়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট লোকজন প্যাকেট বা কার্টনে কী আছে, তা না জেনেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। সেসব ঠিকানায় অবস্থান করা লোকজন বেশির ভাগ সময় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে। অবৈধ পণ্য হাতে পাওয়ার পর তারা দ্রুত পণ্যসহ অবস্থান পাল্টায়।
 
অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ পণ্যের চালান বন্দরে পৌঁছার পর আমদানিকারকের পক্ষে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তি নিজস্ব পরিবহনে করে চালান বন্দর থেকে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ‘জরুরি কাজে নিয়োজিত’ লোগো, স্টিকার বা ব্যানার টানিয়ে এসব অবৈধ পণ্য দেশের মধ্যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পরিবহন করা হয়। একই এলাকার মধ্যে বা একটি শহরের মধ্যে অবস্থান করা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী কিংবা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যারা জঙ্গিবাদে জড়িত, নিজস্ব ব্যাগে করে এসব অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, মাদক নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়। তবে বহনকারীরা অনেক সময় জঙ্গি হামলায় অংশ নেয় না। তারা কেবল বহনের কাজ করে।
 
সুরক্ষিত হচ্ছে সীমান্ত
অস্ত্র কেনাবেচা ঠেকাতে ২০১৪ সাল থেকে পাহাড়ি এলাকার সীমান্ত সুরক্ষিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে এত দিন ২৮১ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত থাকলেও এর মধ্যে ১৩০ কিলোমিটার এখন সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত থাকলেও এরই মধ্যে সুরক্ষিত হয়েছে ৮৫ কিলোমিটার। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট।
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close