সোমবার,  ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৬, ১১:৩৭:১৬

সালামি থাকলেও সালাম নেই!

অনলাইন ডেস্ক
ঈদ মানে আনন্দ, উত্তেজনা আর আলাদা আমেজ। এই আনন্দ সবচেয়ে বেশি রেখাপাত করে শিশু-কিশোরদের অন্তরে। আর ঈদ আসলেই ঈদী বিষয়টা দোলা দেয় তাদেরকে।
 
রমজানের প্রথম দিন থেকেই টান টান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে কেটে যায় তাদের পুরো মাস। অপেক্ষা করতে থাকেন কখন আসবে সেই সুবর্ণ সময়। খুশির ঈদ।
 
ছোটরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় ঈদের দিন সকালে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের সেলামি কিংবা ঈদী সংগ্রহ করতে গিয়ে। বাড়ির বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করলে তারা স্নেহ নিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেন সালামি কিংবা ঈদী। তবে সালামির পরিমাণ যাই হোক না কেন নতুন টাকায় ঈদী না পেলে শিশুদের মুখটা যেন মলিন হয়ে থাকে। তাই বড়রাও ঈদের আগে আগে যে কোনো উপায়ে হোক  তাদর জন্য নতুন টাকা সংগ্রহ করেন। 
 
ঈদের এ ঈদী  নিয়ে  ছোটদের মধ্যে অনেক গালগল্প আর বড়াই করতেও দেখা যায়। কার কাছ থেকে কত  টাকা  পাবে সে পরিমাণটাও প্রতিদিন কয়েকবার করে হিসাব করতে থাকেন তারা। সালামির পরিমাণ বেশি যার গল্প বলার গলাটাও  চড়া তার। ঈদী বেশি পেলে আনন্দ-হইচই বেশি।
 
এ সালামির টাকা নিয়ে শিশুরা স্বাধীনমতোই কেনাকাটা করে। তারা বিভিন্ন ধরনের খেলনা, বেলুন, বাঁশি, রঙিন চশমা, কিনে আনন্দ পায়। একসময় কিশোর কিংবা  তরুণেরা সিনেমা হলগুলোতে ছুটে যেত। এখন সিনেমা হলে আগের মতো ভিড় নেই। এ প্রজন্মের তরুণ–তরুণীরা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা, পার্টিতে নাচ-গান, আর ফেসবুকে বসেই সময় কাটায়। 
 
একসময় ঈদী ছিল ৫ টাকা ১০ টাকা। সেলামকারীর বয়স অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০ টাকা। সেই সেলামি এখন অনেক বড় হয়েছে। বর্তমানে ১০০ টাকার কমে ঈদী নিতে চায় না কেউ। অনেক ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ শ থেকে ৫ হাজার, এমনকি ১০ হাজার টাকাও হয়ে থাকে।
 
পরিমাণ যাই-ই হোক সালামির প্রথা ঠিকই আছে আগের মতো। সালামি থাকলেও সালামের প্রথাটা যেন কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে। অনেক ছেলেমেয়েই এখন আর আগের মতো বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে না। কিন্তু সালামির আবদার তাদের  ঠিকই আছে। ঈদী দেয়া–নেয়ার নিয়মেও এখন পরিবর্তন এসেছে। আগে হাতে হাতে ঈদী দেয়া হলেও এখন অনেকে ঈদী দিচ্ছেন মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে। অনেকক্ষেত্রে সালামিদাতা এবং সালামিগ্রহীতার  সামনাসামনি আসারও প্রয়োজন হয় না।
 
আমাদের সবকিছুতেই লেগেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। আমরা যেন আগের সেই আবেগ ধরে রাখতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে সবাইকে। তবেই ঈদ আগের মতোই খুশির বার্তা নিয়ে হাজির হবে সবার দুয়ারে।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close