সোমবার,  ১৬ জুলাই ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৬, ১৬:১০:৫৪

আর কত বঞ্চিত হবে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা ?

মো. রাছেল রানা
অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের পূর্ব পর্যন্ত বৈশাখী ভাতা নামটিও জানা ছিলো না কারোর। কিন্তু, এখন বৈশাখী ভাতা কারো জন্য পুষমাস আর কারো জন্য সর্বনাশ। এটা তো হবার কথা ছিল না। কেন হল? এই বৈশাখী ভাতার প্রবর্তন করে যিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে গেছেন, আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকেই তারা বিতর্কিত করেছে এমপিও শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা না দিয়ে।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সে শুভ ইচ্ছাটিকে তারা তাদের ঘৃণ্য শিক্ষক-বিদ্বেষী ছুরি দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আহত করে নাই, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায়ও কুঠারাঘাত করেছে। এর খেসারত কোন না কোন ভাবে একদিন তাদের দিতেই হবে। কেননা, কারো ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপরাধ নিঃসন্দেহে কবিরা গোনাহকেও ছাড়িয়ে যায়।
 
গত মঙ্গলবার (২১ জুন) অধিদপ্তর থেকে দেয়া একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ঈদ বোনা নতুন স্কেলে দিলে কত ব্যয় হবে আর পুরনো স্কেলে দিলে কত ব্যয় হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।
 
এদিকে উৎকণ্ঠায় রয়েছে শিক্ষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন ঈদের আগে বোনাসের টাকা হাতে পাবেন তো?
 
ক্ষুব্ধ শিক্ষক নেতা মো. নজরুল ইসলাম রনি বলছেন, ৩০ জুন অবসরে যাচ্ছেন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন। যাওয়ার আগে শেষ কষ্টটা দিয়ে যাবেন বেসরকারি শিক্ষকদের? তিনি কেন নতুন পুরনো স্কেলের বিষয়ে মতামতের চিঠিটি আরো দুই সপ্তাহ আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিলেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন আগে থেকেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে রাখলেন না?
 
২৬ জুনের মধ্যে চলতি মাসের বেতন এবং নতুন স্কেল অনুযায়ী ঈদ বোনাস প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ জারির একটা ভিন্ন কারণও আছে। সাধারণত সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ববর্তী মাসের বেতন পরবর্তী মাসের ১/২ তারিখ পেয়ে থাকেন। কিন্তু, এবার ঈদ ও রমজানের কারণে চলতি মাসের বেতন ২৬ তারিখের মধ্যে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে অতি মানবিক এবং যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।
 
তাই, এবারের ঈদে অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেলে ঈদ বোনাস পেতে যাচ্ছেন আমাদের সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ ঈদে সেটি তারা পুরনো স্কেলে পাবার কথা ছিল। কিন্তু, সরকার অতিশয় বিবেক ও প্রজ্ঞা দিয়ে তা যাতে তারা নতুন অষ্টম জাতীয় স্কেলে পেতে পারেন, সে জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অবশ্য সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অন্যান্য সরকারি চাকুরের ন্যায় মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারের বদান্যতাকে স্বাগত জানাতেই হয়। অবশ্য এ দু'টি সুবিধা অন্য সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্যও প্রযোজ্য হচ্ছে।
 
কিন্তু, বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারি আজো জানেন না, তারা চলতি জুন মাসের বেতন কতো তারিখে পাবেন? এমনিতেই তারা সচরাচর পূর্ববর্তী মাসের বেতন পরবর্তী মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের আগে পান না। তদুপরি জুন মাসের বেতন পাওয়া নিয়ে তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়।
 
গড়িমসি করে পহেলা বৈশাখটা পার করে দিয়ে বৈশাখী ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হলো শিক্ষক-কর্মচারীদের এবারো কি একই ধান্দায় ?
 
লেখক: সহকারী শিক্ষক কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।  
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close