মঙ্গলবার,  ১৬ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৬, ১৬:৫৭:০৩

সাক্ষাৎকারের ফলে রাজস্ব ব্যাহত!

প্রতিদিনের কার্যতালিকা অনুযায়ী রোববার সপ্তাহের প্রথম দিন। শুক্র ও শনি- এই দুদিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে অন্য কোন দিনের চাইতে রোব ও বৃহস্পতিবার রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক প্রতিনিধিদের কার্যতালিকায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বের বৃত্তে হঠাৎ কালবৈশাখীর প্রবল থাবায় লণ্ডভণ্ড সকল পরিকল্পনা, লণ্ডভণ্ড নিত্যদিনের কার্যপ্রণালী। কালবৈশাখীর মানে হচ্ছে পূর্ব নোটিস ছাড়াই নতুনের গৃহীত নতুন আইনের প্রবর্তন ও বাস্তবায়নের নানান ধরনের জটিলতা।

জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি'র ইতিহাসে বিনা নোটিসে এবারই প্রথম নতুন এই আইন কার্যকর করতে গিয়ে আজ প্রায় সপ্তাহ হতে চলছে নারী গৃহকর্মীদের কোন ছাড়পত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না; যেখানে প্রতিদিন ১২০০-১৫০০ জন কর্মীর অনুকূলে ছাড়পত্র গ্রহণ করা হত। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেত জন প্রতি ২৫০-৪০০ টাকা আর কল্যাণ বোর্ড পেত ৩৫০০ টাকা। হারালাম কত টাকা? এই হিসাব জনতার আদালতে।

সরকার যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনশক্তি রপ্তানি খাতে প্রয়োজন আরো বেশী সহজীকরণ নীতিমালা। যা হতে পারে আগামী দিনের সুন্দর পথ চলা, রেমিটেন্সবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার সুদীপ্ত পথে আগুয়ান এক সময়ের সাহসী পদক্ষেপ।

ম্যান পাওয়ার ব্যুরো বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নিয়োজিত সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও রি/এজেন্সির যৌথ প্রয়াস হতে পারে রেমিটেন্স বৃদ্ধির রাখিবন্ধন সৃষ্টিকারী সমর যোদ্ধা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিনা নোটিসে সপ্তাহের প্রথম দিন কাজ বন্ধ করার পর জানতে পারলাম গত বৃহস্পতিবার ব্যুরো কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় গৃহীত হয় সাক্ষাৎকার ব্যতীত সৌদি আরবসহ বিশ্বের যেকোন দেশে গমনেচ্ছুক কোন নারী কর্মী প্রেরণ করা যাবে না।

তাৎক্ষণিক রি/এজেন্সির প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ করল, বলা হল কিছুদিন শিথিল করা হোক আর না হয় ঈদের পর ঐ আইনের বাস্তবায়ন হোক। জবাবে বলা হল, আমাদের সিদ্ধান্ত নড়চড় হবে না, বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা লাগে অর্থাৎ আমরা প্রয়োজনে গুলি করতেও প্রস্তুত আছি। এ কথায় মনে হচ্ছে কারো গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, রেমিটেন্সে আঘাত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সামিল।

নতুন আইনটি কার্যকর হোক, এজেন্সির প্রতিনিধি ও মালিক স্বাগতম জানাবে এমনটাই সর্বমহলের কাম্য। আমিও তাই মনে করি। কোন সমালোচনার জন্য লিখতে বসিনি। লিখতে বসেছি সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া যেভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তা আরো বেশী গতিশীল, আরো বেশী জনবান্ধব, আরো বেশী যুগোপযোগীকরণে কিছু সুপারিশমালা গ্রহণে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কিন্তু দুর্ভাগ্য গ্রাস রোডের অবলা নারী কর্মীর, দুর্ভাগ্য ম্যান পাওয়ার প্রতিনিধিদের, দুর্ভাগ্য ভোক্তাদের। ভোক্তার কথা কে শোনে? ভোক্তার প্রস্তাবসমূহ নিজ নিজ কল্যাণে উপস্থাপিত মনে করে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিএমইটি কর্তৃপক্ষ।

রি/এজেন্সির প্রতিনিধিদের দাবি ছিল:

ক. কর্মী রিক্রুট করার সময় অথবা প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন সময়ে তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য।

খ. ইমিগ্রেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদেরকে সাক্ষাৎকার কমিটির আওতামুক্ত রাখার জন্য। কারণ সাক্ষাৎকার কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাড়পত্র গ্রহণের কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গ. ইতিপূর্বে যারা ফিটনেস সার্টিফিকেট পেয়ে ভিসাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা বা সাক্ষাৎকার মুক্ত ছাড়পত্র প্রদানের জন্য।

ঘ. বিদেশ গমনের সবশেষ স্তর হচ্ছে ছাড়পত্র গ্রহণ। আর তখনি হয়রানি-ভোগান্তির শিকার হয় সাধারন মানুষ; যাহা কখনই কাম্য হতে পারে না।

ঙ. ছাড়পত্র গ্রহণের লক্ষ্য যদি হয় কর্মীর ভিসার সঠিকতা যাচাই, চাকরি, বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদির নিশ্চয়তা তা হলে বাধা যেখানে সমাধান সেখানেই হওয়া উচিত।

চ. বিশেষ করে কর্মী বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে সকল দায়-দায়িত্ব যদি রি/এজেন্সির উপর বর্তায় বা দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয়, তাহলে তাদের দাবি পূরণে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের অনড় অবস্থানের বিপরীতে রেমিটেন্সকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার মত অবস্থা। যা দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত।

ছ. কিছু সংখ্যক নকশাল বা ভিন্নমতাবলম্বীদের কারণে বিএমইটির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জল যে মানুষটি পরিচালক থেকে মহাপরিচালক তার সম্মান ম্লান হতে পারে না। তাই তাকে সতর্ক ও সজাগ থাকার বিনীত অনুরোধ করছি। কারণ অধঃস্তন কর্মকর্তাদের অধপতনে তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিয়ার রহমানের কথা বলা যেতে পারে।

লেখক: এস এম সারফুদ্দিন শাওন, পেশাজীবী।

এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close