শনিবার,  ২১ এপ্রিল ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০১৬, ২১:২১:৫৮

ফয়েজ আহমদ ফয়েজের একটি চিঠি

উর্দু থেকে ভাষান্তর: জাভেদ হুসেন
[ফয়েজ আহমদ ফয়েজ (১৯১১-১৯৮৪) তখন কারাগারে। মাথার ওপরে রাষ্ট্রব্যবস্থা পাল্টানোর ষড়যন্ত্র মামলা, যা ‘রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে। ছয় বছর কারাবাসকালের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনবোধকে পরিপক্ব করেছে। সেই সময়ে তাঁর স্ত্রী অ্যালিসকে লেখা একটি চিঠি এখানে মুদ্রিত হলো। চিঠির শেষে একটি কবিতা লিখেছিলেন কবি। সেটিও দেওয়া হলো। চিঠি ও কবিতাটি ১৯৫৩ সালে লেখা। সংকলিত হয়েছে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ফয়েজের পত্র সংকলনÑসলিবে মেরে দরিচে মে হতে।]
আগে মনে হতো বন্দিত্বের মাঝে একধরনের অহংকার আছে। এখন জানি, কথাটা ভুল। এতে শুধু বেদনা আছে, বর্ণনাতীত বেদনা। কিন্তু এই বেদনা অনুভব করলাম একটা শিকারি বাজপাখি দেখে। পাখিটা জেলখানার স্নানঘরে এক সেন্ট্রির হাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু সন্ধে বেলা কী করে সে দড়ি ছিঁড়ে একটা গাছে গিয়ে বসল। দড়ি আটকে গেল গাছের ডালে। সারা রাত বেচারা দড়িতে ঝুলে রইল। জেলখানার বন্ধ কামরায় সারা রাত তার আর্তনাদ শুনলাম। সকালে ওকে নামান হলো। বেশ কয়েক জায়গায় পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। এখন তার না আছে লড়ার, না শিকার করার ক্ষমতা। আঙিনায় সে অসহায় বসে আছে। যে পাখিগুলো গতকালও তাকে দেখে প্রাণের ভয়ে পালাত, ওরা আজ দলবেঁধে ওকে বিদ্রুপ করছে। পাখিরা তো কাঁদতে পারে না, কিন্তু ওর চোখে বেদনা দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। বোঝা যাচ্ছে আজকালকের মধ্যে মারা যাবে। ভাষাহীন প্রাণীদের মৃত্যুর জন্য হয়তো প্রকৃতি এই পথই খোলা রেখেছে। অসহায় মূক প্রাণীদের মৃত্যুতেই মুক্তি। শুধু মানুষই পারে বেদনা নিয়ে বেঁচে থাকতে বছরের পর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কারণ তার বেদনার নিরাময় মৃত্যু নয়, জীবন। এই জন্য তার দৃষ্টি নিজেকে নিজের সময়কে ছাপিয়ে যায়। এ জন্যই সেই শুভদিনের আশায় থাকেÑযা হয়তো সে নিজে দেখে যেতে পারবে না। সেই দিন যখন সব দুঃখ শেষ হয়ে যাবে, সব অশ্রু মুছে যাবে, বেদনা স্তব্ধ হয়ে যাবে, কান্নার বদলে হাসতে হবে।
অগণিত বছরের পর মানুষ হাত ব্যবহার করতে শিখেছে; ভাবতে, কথা বলতে কেটে গেছে আরও কত হাজার বছর। সে শিখেছে যুদ্ধ, ধর্ম, বর্ণের বিচার করে ঘৃণা করতে। হয়তো সেই সময় কাছে এসেছে, যখন সে ভালোবাসতে, সুখে থাকতেও শিখবে।
 
চলো আবার হেসে উঠি
চলো আবার হাসি
চলো আবার হৃদয় জ্বালাই
যে রাত কেটে গেছে
তাদের আবার জাগিয়ে নিয়ে আসি
যে কথা বলা হয়ে গেছে
তাদের আবার স্মৃতিতে ডেকে আনি
চলো আবার কাউকে মন দিই
চলো আবার হেসে উঠি
 
কোনো সুন্দরীর, গায়ে ঢলে পড়ল
কোনো বসনের সেই রংধনু
কোনো শিরায় লজ্জায় শিহরিত হলো
সেই বেদনা কোনো ছলাকলার
 
কোনো নির্দয় বাক্য
ফুটে উঠল কোনো ঠোঁটের কোণ হতে
ঝনঝন করে হৃদয়ের পানপাত্র
অলিন্দের তলে আবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হলো
এই লগ্নের, এই জ্বলনের
এই মিলনের, না মিলনের
 
যদি এসব ঘটনা সত্যি হয়
যে রাত কেটে গেছে
যে কথা বলা হয়ে গেছে
কেউ তাদের সুরে গেঁথে নিক
কেউ তাদের গান গেয়ে উঠুক
চলো আবার কাউকে মন দিই
চলো আবার হেসে উঠি
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close