বুধবার,  ২০ জুন ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৬, ২২:০৯:৩৬
সাক্ষাৎকার: মোহাম্মদ আলী

‘তারা আমাদের দেখাত সাদা যিশু, প্রত্যেক লাস্ট সাফারই সাদা’

প্রখ্যাত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকসাইড মোহাম্মদ আলীর এই ইন্টারভিউ ধারণ করে ভিডিওতে ১৯৮৯ সালে, যখন মোহাম্মদ আলী লড়তে শুরু করেছেন পারকিনসন নামের জটিল রোগের সঙ্গে। সে সময় তাঁর ক্যারিয়ারও ছিল প্রায় শেষের দিকে। এ ইন্টারভিউটি ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে লিখিত আকারে। মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে কথা বলেন স্যাম পোলার্ড ও জুডি রিচার্ডসন। সাম্প্রতিক দেশকাল-এর জন্য এটি সংক্ষিপ্ত আকারে অনুবাদ করেছেন রাফসান গালিব। এ সংখ্যায় তার প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হলো...
 
এলিজা মুহাম্মদ (আফ্রো-আমেরিকান মুসলিম ধর্মগুরু) এবং ম্যালকম এক্স’র (আফ্রো-আমেরিকান মুসলিম নেতা) কোনো কথা কি আপনাকে আকৃষ্ট করেছিল ‘মুসলিম নেশন’-এর (আফ্রো-আমেরিকান মুসলমানদের ধর্মীয় সংগঠন) সঙ্গে যুক্ত হতে?
আমার এক বন্ধু মসজিদে যেত এবং সে একদিন এর ভেতরে যেতে ডাকল, মায়ামিতে। আমি ম্যালকম এক্সকে বলতে শুনলাম, যেটা আমাকে আকৃষ্ট করলÑকেন আমাদের নিগ্রো বলে ডাকা হয়? চীনের মানুষ চায়নিজ, কিউবায় কিউবান, রাশিয়ায় রাশিয়ান ও জার্মানির মানুষ জার্মান হিসেবে পরিচিত। কোন দেশটি আছে, যেটার নাগরিক নিগ্রো হিসেবে পরিচিত? আমি বললাম, সত্যিই তো। তিনি বললেন, আমাদের কোনো নাম নেই। আমি তাঁকে বললাম, এখানে আফ্রিকা, চীন বা ইন্ডিয়া থেকে ইহুদি, চীনা বা ইন্ডিয়ান যে-ই আসুক না কেন, সবার নাম হয়ে যায় জর্জ, জো বা জিম। সে সাদা কিংবা কালো হোক। আমরা সবাই একই নামধারী। আমাদের কোনো নাম নেই। তারা আমাদের দাস ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নামকরণ করেছিল। তাই আমি এলিজা মোহাম্মদ থেকে নাম নিই মোহাম্মদ আলী। এবং শিগগির আমি মোহাম্মদ আলী হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠি এবং সমগ্র মুসলিম দেশে এ নাম ছড়িয়ে পড়ে।
 
যখন আপনি মুসলিম নেশনে যোগ দিলেন, তখন কি এটা ভাবছিলেন, এর কারণে বক্সার হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এ নিয়ে আপনি সচেতন ছিলেন কি না?
আমি খেয়াল করলাম, আমি যদি ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টা প্রকাশ করি, তাহলে তারা আমাকে চাপ দিতে পারে। তাই বিষয়টা তিন বছর পর্যন্ত গোপন রাখি। নিঃশব্দে মিটিংয়ে যেতাম, চুপচাপ পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকতাম। আশপাশে পুলিশ আছে কি না দেখতাম। কিন্তু সনি লিস্টনকে হারানোর পর সেই সঙ্গে নিজেকে আরও নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি অর্জনের পর আমি তাদের সরাসরি বলে দিলাম এবং প্রকাশ করে দিলাম।
 
কখন আপনি মুসলিম নেশনে যুক্ত হলেন?
১৯৬১ সালে, আর সনি লিস্টনের সঙ্গে লড়াইটা ছিল ’৬৪-তে।
 
সে সময়টা রিংয়ের ভেতরের মতো বাইরেও কি আপনার সময়টা উত্তেজনাময় যাচ্ছিল?
ধনী লোকেরা মানে সাদা মানুষেরা সে সময় রিংসাইডের সিটগুলো কিনত। তো আমি তখন কথা বলতাম, খ্যাপাটেপনা দেখাতাম, আধিপত্য দেখাতাম, ‘আমি সর্বকালের সেরা। জোকে বলো আমিই লড়াই জিতব।’ তারা বলত, নিগার তো বেশি কথা বলে, নিগারকে বদলানো দরকার। একজন কালো মানুষ বলছেÑআমিই সেরা, এটাই আমাকে আকর্ষণীয় করে তুলত। আমরা আসলে কখনো সেভাবে ভাবিনি। আমরা ভাবতাম, কালো মানুষের ভাগ্য খারাপ। কলেজে ভর্তি হতে প্রত্যাখ্যাত হতাম। কালো ছিল খারাপ আর সাদা মানে ভালো। তাই একজন কালো হিসেবে ভাবতাম, আমিই সেরা, আমি সুন্দর। তারা আমাদের দেখাত সাদা যিশু, প্রত্যেক লাস্ট সাফারই সাদা। প্রত্যেক দেবতা সাদা, টারজান যে আফ্রিকা থেকে এসেছে, সে-ও সাদা। যেখানে দেবতারা সাদা ও শয়তান বাদামি, সেখানে একজন কালো মানুষ বলছে, ‘আমিই সেরা, আমি মহান!’ এই আচরণ আমাকে ঘৃণ্য করে তোলে অনেক সাউদার্ন, সাদা আর কালোদের কাছে। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস, আত্মগর্ব ও ভিন্নতাই আমাকে জনপ্রিয় করে  তোলে।
 
যখন আপনি ফ্লয়েড পিটারসনকে পরাজিত করেন, সেই লড়াইয়ের আলাদা কি বিশিষ্ট ছিল? সেই লড়াইয়ের কোন বিষয়টা আপনাকে আলোড়িত করে?
আমার ও ফ্লয়েডের মধ্যে যে লড়াই সেটা শেষ। অতএব তাঁর সম্পর্কে আমি নেতিবাচক কিছু বলতে চাই না। সে আমাকে ক্লে বলে ডাকত না। সে বলত মুহাম্মদÑক্লে নয়। সে কখনোই আমাকে আলী বলে ডাকত না। সে ক্লেই বলতে থাকত শুধু। তখন আমি আক্রমণাত্মক ভূমিকায় গেলাম এবং বললাম, যতক্ষণ না তুমি আমার নাম বলবে আমি ঘুষি মারতে থাকব। প্রথম রাউন্ডে যখন সে আমার নাম বলল না, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে আমি তাকে আঘাত করতে থাকলাম। তখন সে বলল, মুহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ আলী। (চলবে)
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close