সোমবার,  ১৬ জুলাই ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৬, ১৩:২৬:০৫

নারীরা সততার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেন: শামা ওবায়েদ

শামা ওবায়েদ এখন বিএনপির অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। বাবা যে দলের মহাসচিব ছিলেন, সেই দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূণ পদে দায়িত্ব পেয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাছির জামাল।
 
রাজনীতিতে জড়িয়ে গেলেন কীভাবে? 
বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব পদে ছিলেন। বাবার সঙ্গে ছোটবেলায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যেতাম। তখন থেকেই এলাকার সবার সঙ্গে আমার ভালো একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আসলে আমার রাজনীতিটা তৃণমূল থেকেই শুরু হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া  আমাকে ডেকে বললেন, ‘তোমার এলাকার জনগণ তোমাকে ভীষণ পছন্দ করে, তাহলে এবার নির্বাচন করো।’ এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা) থেকে সংসদ সদস্যপদে নির্বাচন করি।
 
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে হঠাৎ দেশে রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা হলো কেন?
ছোটবেলা থেকেই একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছি। বাবাকে দেখেছি মানুষের দুঃখে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়, কীভাবে দেশের মানুষের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করতে হয়। বাবার আদর্শে ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি ছিল আমার ধ্যানজ্ঞান। সেই ইচ্ছেটি পূরণ করতে পেরেছি। মানুষের মঙ্গলের জন্য সারা জীবন কাজ করতে চাই। আর দেশের বাইরে মূলত থাকা হয়েছে পড়াশোনার জন্য। আমি মনে করি, একজন রাজনীতিবিদকে অবশ্যই আগে শিক্ষিত হতে হবে।
 
বলা হয়, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেদিক থেকে দেশে, বিশেষ করে আপনার দলের নারীদের ক্ষমতায়নে আপনি কীভাবে ভূমিকা রাখবেন বলে ভাবছেন?
এ কথা ঠিক যে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন আশা করা যায় না। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) উদ্দেশ্যও হচ্ছে উন্নয়নের জন্য নারীদের ক্ষমতায়ন। সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগেই আমি নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছি। দরিদ্র-গর্ভবতী মায়েদেরও সহায়তা করতে কাজ করছি। উইমেন্স অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছি মূলত নারীদের উন্নয়নের জন্য। তবে রাজনীতিতে মেয়েদের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। এতে রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন হবে। আমি মনে করি নারীরা যখন কোনো কাজ করেন, আরও বেশি সততার সঙ্গে করেন। প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি।
 
দেশের বর্তমান রাজনীতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বর্তমানে রাজনীতিতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। গণতন্ত্র যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে রাজনীতি থাকে না। সংসদে বড় কোনো বিরোধী দল নেই। যারা আছে, তারাও সরকারের মতোই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। সরকারের বিপক্ষে কথা বলার কোনো লোক নেই। সরকারের যা ইচ্ছে তা-ই করছে, কোনো দায়বদ্ধতা নেই। উল্টো বিএনপি এর প্রতিবাদ করতে গেলে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে, গুম-খুনের মতো স্বৈরাচারী কর্মকা- করছে। এমন একটা অবস্থা, যেখানে রাজনীতি বা গণতন্ত্র কিছুই অবস্থান করতে পারে না।
 
আপনার কথামতো দেশের রাজনীতিতে যেহেতু ভয়াবহ অবস্থায়, সেখানে বড় একটি দল হিসেবে বিএনপি সরকারের বিপক্ষে কিছুই করতে পারছে না কেন? আপনাদের দুর্বলতাটা কোথায়?
বিএনপি কখনোই দুর্বল ছিল না, এখনো নয়। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করে চলেছে। কিন্তু বর্তমানে স্বৈরাচারী সরকারের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী এ সরকারের বিপক্ষে বিএনপি আন্দোলনে মাঠে থাকলেই জঙ্গি বানিয়ে দেয়। দেশে-বিদেশে হত্যা হলে বিএনপির নাম চাপিয়ে দেয়। সরকারের কাছে বিএনপি মাঠে থাকলেও দোষ, ঘরে থাকলেও দোষ। তাহলে বিএনপি থাকবে কোথায়? বরং আমাদের চেয়ারপারসন সরকারকে সহায়তা করার জন্য সব সময় এগিয়ে এসেছেন। আমি বলব, বিএনপির আন্দোলন চলমান। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপি যেভাবে সরকারের বিপক্ষে কঠোর আন্দোলনে ছিল, বর্তমানে সেই কঠোর আন্দোলনেই রয়েছে।
 
রাজনীতিতে তরুণদের আগমন আপনি কীভাবে দেখেন?
তরুণদের রাজনীতিতে আসাকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখি। বর্তমানে রাজনীতিতে তরুণেরা বিভিন্নভাবে অবদান রাখছেন। তাঁদের মধ্যে নতুন কিছু করার স্পৃহা খুব বেশি থাকে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শুধু রাজনীতি করলেই হবে না। তরুণদের অব্যশই শিক্ষিত হতে হবে, আত্মত্যাগী হতে হবে এবং সর্বোপরি সিনিয়রদের সম্মান করতে হবে। তাঁদের পথ অনুসরণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রবীণদের যথাযর্থ মূল্যায়ন করতে হবে।
 
জাতীয়তাবাদী দল তরুণদের কতটুকু মূল্যায়ন করছে?
এবারের কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলে তরুণদের সুযোগ দিয়েছেন। তা ছাড়া নারীরাও সমানভাবে সুযোগ পাচ্ছেন বিএনপিতে।
 
উল্লেখ্য, শামা ওবায়েদ রাজধানীর স্বনামধন্য স্কুল স্কলাসটিকায় প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা নেন। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেখানকার স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন ও এমবিএ ডিগ্রি নেন। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তবে ২০০২ সালে চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। একসময় শামা ওবায়েদ ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
 
পেশাগত জীবনে শামা ওবায়েদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্বামীর ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়েছেন। সেটার দেখভাল নিজেই করেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মাযহারুল ইসলামের ছেলে শোভন ইসলামের সঙ্গে। তাঁর স্বামীও ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক তাঁরা। ছেলে নবম শ্রেণিতে ও কন্যা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close