বুধবার,  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:০৩:০৯

‘দাবিক-এ প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সরকারের’

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মুখপত্র দাবিক-এর সর্বশেষ সংখ্যায় (১৩ এপ্রিল, ২০১৬) শেখ আবু ইবরাহিম আল হানিফ নামের কথিত এক বাংলাদেশির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। আবু ইবরাহিমের সাক্ষাৎকার এবং এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে কথা বলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রি. জে. এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.)। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আ. পারভেজ
 
‘দাবিক’-এ প্রকাশিত কথিত বাংলাদেশি আবু ইবরাহিম আল হানিফের সাক্ষাৎকার সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই-
সাক্ষাৎকারটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশে আইএসের ঘাঁটি আছে কি নেই, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে মূলত বাংলাদেশকে নিয়ে আইএসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা এতে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ যেসব রাজনৈতিক দল আছে, কোনোটাই তাদের আদর্শের নয়। অর্থাৎ সুন্নাহভিত্তিক নয়। যে কারণে এদেশে একমাত্র তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাড়া বাকি সবাইকে তারা কনডেম করছে। আর্মি-পুলিশ কাউকেই তারা অস্বীকার করতে বাদ রাখেনি। প্রয়োজনে তারা বাংলাদেশকে ঘিরে পাশের দেশে অভিযান চালানোর কথাও বলেছে।
 
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আইএসের কোনো সংগঠনই নেই। এ অবস্থায় এ ধরনের সাক্ষাৎকার কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি ভুয়া কি না, তা জানি না। বোঝাও মুশকিল। তবে নিরাপত্তার খাতিরে হালকা করে দেখা উচিত নয়। তা ছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের সঠিক অবস্থানও আমরা জানি না। দাবিক-এর সাক্ষাৎকার সত্যি নাকি ফেক, তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সরকারের।
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আইএসের কোনো ঘাঁটি নেই। কখনো হবেও না’...
হ্যাঁ, তিনি এ কথা বললেও ওই সাক্ষাৎকারে কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি, বিষয়টি এত হালকা করে দেখা ঠিক হবে না। তা ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে বলেছেন বাংলাদেশে আইএস নেই, একই দিনে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন আফগানিস্তানে আট হাজার বাংলাদেশি আল কায়েদার প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং তারা এখন দেশেই আছে। যদিও আইএস এবং আল কায়েদা দুটো ভিন্ন সংগঠন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ  থেকে এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তো বিভ্রান্তিকর। এসব বক্তব্য জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
 
দাবিক-এ জান্দাল নামে এক বাংলাদেশি তরুণের কথা বলা হয়েছে...
দাবিক-এ তার ছবিও ছাপা হয়েছে। জান্দাল আল বাঙাল নামের ওই তরুণের পারিবারিক পরচিয়ও তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী সে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছে এবং জিহাদে অংশ নিয়ে মারা গেছে। সরকার ইচ্ছে করলে জান্দালের ব্যাপারে সত্যতা নিশ্চিত করতে পারে। তা ছাড়া শুধু জান্দালই নয়, বাংলাদেশ থেকে তার মতো অনেক তরুণ কিন্তু আইএসে যোগ দিতে দেশ ছেড়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে কেউ কিন্তু বলছে না যে, বাংলাদেশ থেকে কেউ আইএসে যায়নি। বরং অনেকের মতে, আইএসে যোগ দেওয়া কেউ কেউ যুদ্ধে মারাও পড়েছে।
 
এই প্রবণতা কীভাবে ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করেন?
আমি মনে করি, সরকারের তরফ থেকে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত, কেন তারা আইএসের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সমস্যাটা কোথায়। সামাজিকভাবে এ ব্যাপারে গণসচেতনতাও সৃষ্টি করা উচিত। জাতীয়ভাবে ঐকমত্য হয়ে কিছু একটা করা দরকার। কিন্তু মুশকিল হলো, সে ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। হয়তো পলিটিক্যাল ডিভাইডেশনের কারণে সেটা হচ্ছে না। কিন্তু এর যে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব, সেই পরিণামের কথা কেউ ভাবছে বলে মনে হয় না। আমাদের প্রবণতা হচ্ছে কোনো একটা ঘটনা ঘটে গেলে তখন সবাই হইচই করে। আগেভাগে কোনো পরিকল্পনা করা হয় না, উদ্যোগ নেওয়া হয় না। যতদূর জানি, এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সফট স্টেট হিসেবে কোনো স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান নেওয়া হয়নি।
 
উল্লেখ্য, দাবিক-এর দাবি অনুযায়ী আবু ইবরাহিম এখন বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা পরিচালনা করছেন (পুরো সাক্ষাৎকারেই তিনি বাংলাদেশকে বেঙ্গল সম্বোধন করেছেন)। সাক্ষাৎকারে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে নিয়ে আইএসের রাজনৈতিক অবস্থান, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আইএসের ভাবনা, বাংলাদেশে ইসলামচর্চা, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ও অঞ্চলভিত্তিক জিহাদি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
‘দাবিক-এ প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সরকারের’
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close