বুধবার,  ১৭ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৩২:১৩

‘বাঁশখালীর আন্দোলনে সব দলের সাধারণ মানুষ আছে’

গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর কথা হয় স্থানীয় ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলীর সঙ্গে। যিনি এ আন্দোলনে গ্রামবাসীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাম্প্রতিক দেশকাল-এর পক্ষে জাহিদ হোসেন ও রাফসান গালিব।
 
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি বেচাকেনার এত দিন পর আপনারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলেন কেন?
এখানকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা। তিনি ও আরও কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী লোক যখন মানুষকে কয়লা বিদ্যুতের ব্যাপারে বোঝাচ্ছিলেন, তখন আমি মিটিং করে এলাকাবাসীকে বুঝিয়েছি, আমাদের পশ্চিমে ইন্টারন্যাশনাল মেরিন ড্রাইভ রোড আর মহেশখালীতে ডিপ সি পোর্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন জমির দাম আরও বাড়বে। বলেছি, এলাকার পরিবেশ ও প্রকৃতি নষ্ট হয় এমন কিছুতে সমর্থন না দেওয়ার জন্য। তখন আমার বিপক্ষে এলাকায় অপবাদ দেওয়া শুরু হয়। এও বলা হয়, এখানে কয়লা বিদ্যুৎ হবে না,  টেক্সটাইল মিল, সুতার মিল, ডকইয়ার্ড এসব হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নাকি আমার অপপ্রচার ছিল। তারপরও এরা জমি কেনার সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে জমি কিনতে পারেনি, যেখানে অনেক জমির মাঝখানে আরও অনেকের ছোটখাটো জমি বা ভিটা থেকে গেছে। তখন তারা এই জমিগুলো জোর করে দখল করছিল।
একইভাবে ৫০-৬০ বছর ধরে সাধারণ মানুষের বংশপরম্পরায় চাষ করা ৭৩২ একরের মতো খাসজমি এসি ল্যান্ড ও ইউএনও সাহেব এস আলমের জন্য সুপারিশ করলে তারা তখন সবাই মিলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব দলের নেতৃস্থানীয় লোকের কাছে যায়, তাদের জীবিকার উৎস রক্ষার জন্য। তখন কাউকে তারা সঙ্গে না পেয়ে তবেই আমার কাছে আসে। এরই মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে জানতে পারে মানুষ। তখন কয়লা বিদ্যুতের বিরুদ্ধে তারা সচেতন হতে থাকে। তারা বুঝতে শুরু করে পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে তারা থাকার জায়গার সংকটে পড়বে।
এরই ধারাবাহিকতায় এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে গত দুই মাস আগে আন্দোলনে নামলে ওখান থেকে একজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। তখনো আমি শহরে। সে ঘটনায় জনগণের আহ্বানে আমি মধ্যরাতেই এলাকায় চলে আসি, সেই থেকেই আমি মূলত জড়িয়ে পড়ি জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে।
 
আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আপনি এলাকাবাসীকে উসকে দিয়েছেন, এখানে জমি বেচাকেনায় আপনার অর্থ-স্বার্থের কথাও শুনছি। তা ছাড়া নির্বাচন করার জন্য এস আলমের কাছ থেকে আপনি কোটি টাকা চেয়েছিলেন বলেও দাবি করছে তারা-
প্রশ্নই ওঠে না। প্রকল্প এলাকায় আমার বা আমার বাবার কোনো জমিই নেই। আগে বাবার নামে যা জমি ছিল, তাও আরেকজনকে বিক্রি করে দিয়েছি। অতএব জমি বেচাকেনা নিয়ে এস আলমের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমি গ্রামের মানুষের পক্ষের একজন। আমাদের বিপক্ষে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সব দলের শত শত নেতা আছেন। এত নেতার কথা না শুনে গ্রামবাসী আমার কথা শুনছে কেন। সে প্রশ্নটাই করতে চাই আমি। আসলে এলাকার সব দলের সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে আছে। ৩২ বছর ধরে আমি রাজনীতি করছি, আগেও আমি জনগণের ভোটে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছিলাম, এরপর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। দুবার আমার দল বিএনপি থেকে আমি বহিষ্কৃত হয়েছি। তারপরেও প্রতিবারই এখানের ৮০ ভাগ ভোট আমার পক্ষেই আসে। নির্বাচন করার জন্য সাধারণ মানুষই আমাকে অর্থ সহযোগিতা করে। এটা এখানকার সবাই জানে। অতএব আমি কেন এস আলমের কাছে টাকা খুঁজতে যাব। আসলে তারা অন্যদের টাকা দিয়ে বশ করে রেখেছে। আমাকে পারেনি।
 
কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, সেটা কীভাবে হলো?
আমি পরিবেশবিদ না, পরিবেশ নিয়ে এখানে কেউ পড়ালেখাও করেনি। কিন্তু পত্রিকা-টেলিভিশনে কয়লা বিদ্যুতের ব্যাপারে বিভিন্ন লেখা, টক শোর বক্তব্য, সুশীল সমাজের মতামত এখানকার মানুষ বুঝতে পারে সহজে। তারা এতে একধরনের শঙ্কিত বোধ করে। তা ছাড়া ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তারা বুঝতে পারছে, ব্রিক ফিল্ডের দুইটা চুল্লির ধোঁয়া থেকে যদি আশপাশের গাছের পাতা ফ্যাকাশে হয়ে যায়, গাছ মরে যায়, তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিদিনকার ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা জ্বললে তা থেকে প্রকৃতির কী হবে। এখান থেকে দশ কিলোমিটার পুবে পাহাড়ে ছনখোলায় কেউ যদি আগুন দেয় ফ্লাই এশগুলো লবণের মাঠে এসে পড়ে। প্রকল্প হলে এখানে যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি হবে এখানে তো মেঘই হবে না, বৃষ্টিও হবে না। এখন যারা জমি বিক্রি করেনি, তারা কোথায় যাবে এভাবে প্রকৃতির এরূপ বিপর্যয় ঘটলে? সুন্দরবনের কিছু দূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে বলে সবাই বলছে, আর এখানে তো আমাদের বাড়ির পাশেই বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। তাহলে আমরা কি জীবজন্তুর চেয়েও খারাপ হয়ে গেলাম যে, আমাদের প্রাণ ও জীবিকা রক্ষায় আমরা আন্দোলন করতে পারব না?
 
এস আলম গ্রুপ দাবি করছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র করার আগে মানুষের উপস্থিতিতে ৪টি গণশুনানি বা সংলাপ হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষ এ প্রকল্পের পক্ষে মতামত দিয়েছে-
কোনো গণশুনানি হয়নি। পাশের ইউনিয়নে প্রজেক্টের ল্যান্ড কোর্ডিনাটার নাছির উদ্দিনের বাড়ির পাশে এস আলমের অফিসে বিভিন্ন দলের নেতৃস্থানীয় লোককে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ছিলেন। সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে এখানে কোনো গণশুনানি হয়নি। আমার বক্তব্য না নিয়ে এলাকায় যে কারও সঙ্গে কথা বলে দেখেন, তারাও একই কথা বলবে।
 
৪ এপ্রিলের হতাহতের ঘটনায় একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড আপনাদের চোখে পড়েছি কি না?
এ কমিটি আজ আট দিন হয়ে গেল এখনো এলাকা পরিদর্শন আসেনি। শহরে হসপিটালে যারা চিকিৎসাধীন আছে, তাদের জিজ্ঞাসা করেছে, তোমাদের ডেকে নিয়ে গেছে ঘটনাস্থলে। এটা তো উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন, বুঝতেই পারছেন। তারা যেন বলে, আমাদের লিয়াকত আলী নিয়ে গিয়েছে। এটাই চাইছে তারা। মূল ঘটনা কীভাবে ঘটল, সে কথা জিজ্ঞাসা করছে না। আরও বলে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মিছিল মিটিংয়ে যেন তোমাদের ভাই-পরিজনেরা না যায়। এ তদন্তের ফল কী হবে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
 
১৪৪ ধারা জারি করার পরও কেন ৪ এপ্রিল আপনারা সমাবেশটা করতে গেলেন?
এখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি। ১৪৪ ধারা জারি হলে ৭ ঘণ্টা আগে মাইকিং করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদে নোটিশ টাঙাতে হবে, হাটবাজারে ঢোল বাজাতে হবে। এরা তিনটির একটাও করেনি। কোনো কারণ ছাড়াই ১৪৪ ধারার অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ অনর্থক শান্তিপূর্ণ সমাবেশস্থল দখল করে নিয়েছে। আমরা তখন ১৫-২০ হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে মাত্র ৩-৪ শত গজ দূরে। পুলিশ সমাবেশস্থল যখন দখল করে নিল, মাইক কেড়ে নিল। আমরা তখন সিদ্ধান্ত নিলাম সমাবেশ না করে রাস্তা দিয়ে মিছিল করে গন্ডামারা বাজার হয়ে ঘুরে চলে আসব। যেই মিছিল শুরু হলো, তখন পুলিশ গুলি করা শুরু করল। গুলির আওয়াজ শুনে পাবলিক নিজেদের আর কন্ট্রোল করতে পারেনি। তখন তারা পুলিশকে ধাওয়া দিতে গিয়ে কেউ নিহত হলো, কেউ আহত হলো। আমাকে বাঁচাতে গিয়েই নিহত হলো দুজন। আমাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, যেটা অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশ্বাস করেন, পাবলিকের হাতে যদি বন্দুক থাকত পুলিশ ও পুলিশের পোশাকধারী এস আলমের ভাড়া করা ডাকাত-গুন্ডারা একজনও প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যেতে পারত না। এখানে ইউএনও ছিলেন, সাধারণ মানুষ দেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিজের হাতে গুলি করেছেন। আমরা সমাবেশ করতে  চেয়েছিলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই কিলোমিটার দূরে। আমরা অধিকার রক্ষায় সমাবেশ মিছিল করছিলাম।
 
এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে আছেন শোনা যাচ্ছে। এসব ঠিক কি না?
যদিও আমি বিএনপির রাজনীতি করি, কিন্তু বলতেই হবে বাঁশখালীর ঘটনা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এটা অধিকার রক্ষার সামাজিক আন্দোলন। এর পক্ষে সব দলের সাধারণ মানুষ আছে। বিপক্ষে আছেন সব দলের নেতৃস্থানীয় নেতারা। এত বড় ঘটনা ঘটল আমাদের এমপি সাহেব এখানে আসেননি, একইভাবে জামায়াতের তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান কেউ কোনো খবর নেননি আহত-নিহতদের। এত বিশাল জানাজায়ও তাঁরা কেউই আসেননি। সারা দেশের মতো বাঁশখালীতেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী-জামায়াত মুখোমুখি, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে তাদের স্বার্থ এক হয়ে গেছে। বিএনপির একটা অংশও তাদের সঙ্গে আছে। কয়লা বিদ্যুতের নামে লুটপাটের দোকান খোলা হয়েছে এখানে।
 
বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে আকাশে সূর্য উঠবে না বলে গুজব ছড়িয়ে সংঘর্ষ বাধানোর অভিযোগ আছে আপনার বিরুদ্ধে-
সূর্য উঠবে না এটা তো আমি বলিনি, আমি বলেছি সূর্য দেখা যাবে না। দিনে ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পুড়লে যে পরিমাণ ফ্লাই এশ বাতাসে উড়বে, তখন সূর্য দেখা যাবে আপনি কীভাবে বলবেন। এখানে গুজব রটানোর কিছু নেই। এ কথা আমি নতুন বলিনি, দুই বছর ধরে বলছি।
 
এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখানে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে না। ভূগর্ভ  থেকে পানি তোলার জন্য নলকূপ স্থাপন হবে না-
বঙ্গোপসাগরের পাঁচটি মৎস্য প্রজননকেন্দ্রের সবচেয়ে বৃহত্তম কেন্দ্র হাটখালী এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই। আর এলাকাজুড়ে লবনের মাঠ তো আছেই। এত বড় প্ল্যান্টের বর্জ্য পদার্থগুলো কোথায় ফেলা হবে? এখন তারা অনেক ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এতদিন কিছুই বলেনি। আর পানির জন্য তো তারা ভূগর্ভে নলকূপ স্থাপন করেই ফেলেছে এবং এই নলকূপ একবার চালু করলে পুরো এলাকার টিউবওয়েলে পানি উঠে কি না সন্দেহ। এই সংকটে এলাকাবাসী পড়েছে ইতিমধ্যে। আপনারা কীভাবে বলেন এখন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে না। আর এটা যদি এতই পরিবেশবান্ধব হয়, তাহলে এখানে না করে ঢাকার গুলশান-বনানীতে করলেই তো পারে। এখানে যেকোনো পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠান করলে এলাকাবাসী সহযোগিতা করবে। তা ছাড়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র না করে সোলার বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, তাপ বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, ডিজেল বিদ্যুৎ যা ইচ্ছা করুণ- আমরা সম্মতি দেব।
 
একদিন হরতাল পালনের পর অন্যান্য আরও কর্মসূচি ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন আপনারা, এখানে কোন সমঝোতা হয়েছে কি না?
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাঁশখালির নিরীহ ছাত্র জনতা হরতাল আহবান করেছে, আর আমরা সমর্থন দিয়েছি। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে শান্তিপূর্ণভাবে এ হরতাল পালন করেছে। এরপর অন্য আরো কর্মসূচি দিয়েছিলাম, কিন্তু আওয়ামী লীগের একজন নেতা আমাকে ফোন করে একান্তে বসতে চেয়েছে। বিএনপি’র আব্দুল্লাহ আল নোমান আসলে উনি চলে যাবার পর আমরা উপস্থিত জনসাধারণের সামনে মুখোমুখি আলাপ করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে কোন লুকোচুরি ও সমঝোতা হয়নি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হয়ে আমাকে এ আন্দোলন প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু দাবী তুলে ধরে ১৫ দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছি।
 
আপনাদের দাবীগুলো কি ছিল?
বিদেশী পরিবেশবিজ্ঞানী এনে এদেশের পরিবেশ গবেষক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে সংলাপ হবে। এতে যদি মানুষ সন্তুষ্ট হয় তাহলে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে দিব। গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা গোপনে চিকিৎসা করছে তাদের প্রকাশ্যে ও নিরাপদে চিকিৎসা নিতে দেয়া এবং পুলিশী হয়রানী থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা হোক
 
পনের দিনের মধ্যে দাবী মেনে নেয়া না হলে?
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র হিসেবে একজন নেতাতো হাজারো মানুষের সামনে আমাদের আশ্বস্ত করলেন। আমরা তো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারব না। আমাদের দাবির কথা তুলে ধরতেই থাকবো।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close