সোমবার,  ১৬ জুলাই ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৫:৪৩:৩০

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই মূল চ্যালেঞ্জ: ফখরুল

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই দায়িত্বের প্রথম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন বিএনপির নবনির্বাচিত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাছির জামাল।
 
গুরু দায়িত্ব লাভের পর আপনার কাজের অগ্রাধিকার কী?
একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে হলে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই চেতনা হচ্ছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি। কিন্তু জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত। বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। জনগণের ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতার অধিকার, জনগণের সংগঠন করার অধিকার এবং মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আসাই বিএনপির বড় কাজ। নিজের জন্যও আমি সেটাই বড় কাজ মনে করি।
 
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার সম্পর্কে কিছু বলুন-
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হচ্ছে, সংগঠনের মধ্যে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বিএনপি হচ্ছে, গ্রামেগঞ্জে-তৃণমূলে শিকড়গাড়া সাধারণ মানুষের আশীর্বাদপুষ্ট একটি দল। এখন প্রয়োজন এ দলকে আরও গতিশীল করে গড়ে তোলা। একটি দল গতিশীল কি না, তা নির্ভর করে সেই দলে তরুণ তুর্কিরা নেতৃত্বে আছে কি না। আপনারা জানেন, দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি একেবারেই তরুণ। এ ছাড়া এবার যে কমিটি হবে, তাতে প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণদেরও রাখা হবে। এ জন্য আমরা এবারের কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে সংশোধনীর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এক নেতা এক পদ। আমি নিজে ইতিমধ্যে একটি পদ রেখে বাকি পদগুলো থেকে পদত্যাগ করেছি। অন্য যাঁরা একের অধিক পদে রয়েছেন, তাঁদের সবাই একটি পদ রেখে বাকি পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। সেসব পদে আমরা যোগ্যদের নির্বাচিত করব। নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা হয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে আমরা একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়ে সারা দেশ সফর করব। প্রয়োজনে জেলা, বিভাগে জনসভা, সভা ইত্যাদি করব। এভাবে দলের মধ্যে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনব।
 
ভবিষ্যৎ আন্দোলন বিষয়ে কিছু জানতে চাই। বিএনপিকে ঘিরে ভাঙনের একটা গুঞ্জনও ডালপালা মেলছে-
বিএনপির নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে বিগত দিনে কয়েকটি আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে, এমন আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি। এতে আমাদের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেকে নিহত হয়েছেন, গুম হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার রয়েছেন। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর নামে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার-আতঙ্কে অনেক নেতা-কর্মী নিজের ঘরে ঘুমাতে পারছেন না। এই ভীতিকর অবস্থা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের মুক্ত করতে হবে।
দলের ভাঙন প্রসঙ্গে এটুকুই বলব, বিএনপি প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা একটি দল। এ দলকে শেষ করে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ষড়যন্ত্র হয়েছে। এরশাদ আমলে বিএনপিতে ভাঙন ধরানো হয়েছে। এখনো এ অবস্থা চলছে। নতুন লোকদের দিয়ে নতুন নতুন বিএনপির জন্ম দেওয়া হচ্ছে। সরকার যত চেষ্টাই করুক বিএনপিকে শেষ করতে পারবে না। আমি বলি, বিএনপি হচ্ছে ফিনিক্স পাখি। সেই গ্রিক উপকথার ফিনিক্স পাখিকে ধ্বংস করা যায় না। ধ্বংস করতে চাইলেই আবার সবেগে জেগে ওঠে সে। তেমনি কেউ যদি বিএনপিকে অন্যান্য মৃত বা ভগ্নপ্রায় দলের সঙ্গে তুলনা করে, তাহলে ভুল করবে। কেননা, যেসব দল মৃত বা ভগ্ন, সেগুলো যুগের প্রয়োজনে তাদের কর্মসূচিতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন আনতে পারেনি। কিন্তু আমরা পেরেছি এবং পারছি।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে আজ পর্যন্ত একটু সময়ও আমরা অবসর পাইনি। দলকে এবং আমাদের সুস্থির হতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও কি পেরেছে আমাদের কাজ থেকে আমাদের বিরত করতে? আমরা দলের পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করছি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। শত বাধার মুখেও আমরা কাউন্সিল করতে পেরেছি। বিএনপিকে শেষ করে দেওয়া এত সহজ নয়।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close