শুক্রবার,  ১৯ অক্টোবর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৬, ১৯:৫৯:২৫

'জাসদে সরকারের লেজুড়বৃত্তির ধারা আধিপত্য বিস্তার করে আছে'

শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা। কিছু সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন সম্প্রতি। বিভক্তির কারণ, ঐক্যের সম্ভাবনা, সরকারকে সমর্থন দেওয়া না-দেওয়া প্রভৃতি বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নূরুর রহমান।
 
জাসদের সম্মেলনের দিন আসলে কী ঘটেছিল?
সেদিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের সময় রীতিনীতিবহির্ভূত কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল। কাউন্সিল অধিবেশনে মিছিল করা, স্লোগান দেওয়া, হইচই করার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। একটি বিশেষ মহলের মদদে তারা এসব কাজ করেছিল। একপর্যায়ে ‘ইনু-শিরিন এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার পিছে’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। একসময় তারা নিজেরাই ‘শিরিন পাস, শিরিন পাস’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।
 
সংবাদ সম্মেলনে আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ তুলেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।
কাউন্সিলের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে প্রেসিডেন্ট সাহেবের সম্মতি বা প্ররোচনায় তারই একজন বশংবদ অনুগত প্রার্থী শিরিন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য প্রস্তাব দেন। শুধু তা-ই নয়, তারা শিরিন আখতারকে যেকোনোভাবে বিজয়ী করার জন্য দৃষ্টিকটুভাবে প্রচারণা চালাতে থাকেন এবং এ পর্যায়ে নীতিবহির্ভূতভাবে তাকে বিজয়ী করে। জাসদ অনেক পুরোনো দল। এর পেছনে অনেক ঐতিহ্যময় স্রোতোধারা আছে, কিন্তু বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের একটি শর্তহীন লেজুড়বৃত্তির ধারা দলে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এর বিপরীতে যে ধারাটি প্রবহমান আছে, তারা চায় জাসদ নিজস্ব স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে সরকারকে সমর্থন করবে। এই ধারাটিকে সম্মেলনে কোণঠাসা করার একটা পরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হয়েছে।
 
জাসদে আপনি একটা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাহলে কি সংস্কার প্রস্তাবের কারণেই বিভক্তি?
সম্মেলনে রাজনৈতিক অধিবেশনের সময় এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সময় অনেকেই অনেক ধরনের আলোচনা করেছেন। বিভিন্নজন বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমার সংস্কারের প্রস্তাব অনেক আগেই জাতীয় কমিটির কাছে দেওয়া হয়েছিল। সেটা কাউন্সিলরদের হাতে পৌঁছালে তারা সেটা পড়েছেন এবং আলোচনা করেছেন।
 
সম্মেলনে সরকার থেকে বেরিয়ে আসার কি কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে?
সরকার থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা মনে করি সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সময় বা পরিবেশ-পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। যখন সৃষ্টি হবে, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এখন আমরা ১৪ দলে আছি, ১৪ দলে থাকব এবং সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান আছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে সরকারের যে অবস্থান, তাকে জাসদ সমর্থন দিয়ে যাবে। তবে জাসদ নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে বিভিন্ন মৌলবাদবিরোধী সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাবে।
 
তাহলে জাসদের বর্তমান বিভক্তির পেছনে নেহাতই সাংগঠনিক কারণ দায়ী?
সম্মেলনে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে অসংগঠিতভাবে শর্তহীন লেজুড়বৃত্তি করার একটা ধারা দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কাজেই বর্তমান বিভক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই এটা বলা সঠিক হবে না। ইনু সাহেব পুরো দলকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সম্মেলনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। এর বিরুদ্ধে সম্মেলনে লেজুড়বৃত্তির বিরোধী যে ধারাটি ছিল, তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
আপনি বললেন, বিভক্তির পেছনে রাজনৈতিক কারণও কিছু আছে। সেই বিষয়ে একটু বিস্তারিত বলুন।
আমি তো বলেছি, এই রাজনৈতিক পার্থক্য হলো একটি ধারা শর্তহীনভাবে সরকারের লেজুড়বৃত্তি করছে, অন্যদিকে অন্য ধারাটি দলের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংগ্রামে সরকারকে সমর্থন করার ধারা। এই দুই ধারার পার্থক্যই রাজনৈতিক পার্থক্য।
 
এখন তাহলে আপনার নেতৃত্বাধীন ধারা সরকারে থাকা না-থাকার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে?
সরকারে থাকা না-থাকার বিষয়ে কাউন্সিল অধিবেশনে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। পরবর্তীকালে কী হয়, সেটা পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধন্ত নেব।
 
লুৎফা তাহের ঐক্যের বিষয়ে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তার নিজ বাসায় দুই পক্ষকে বসানোর একটা চেষ্টা করছেন। তার উদ্যোগ কতটুকু অগ্রসর হয়েছে?
ঐক্যের প্রশ্নে যারা যে উদ্যোগ নেবে, আমরা তাদের সেসব চেষ্টাকে স্বাগত জানাব। জাসদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরও অনেকে চেষ্টা করছেন, আমরা সবার চেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছি।
 
ঐক্যের কি কোনো সম্ভাবনা আছে?
আমাদের দাবি বা শর্ত যেটাই বলা হোক না কেন, তা হলো যে কাউন্সিল হয়েছে, সেটা বাতিল করে নতুন করে আবার কাউন্সিল ডাকতে হবে।
 
এমন জটিল পরিস্থিতিতে আপনাদের আগামী করণীয় কী?
ঐক্যের ব্যাপারে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। সেই বিষয়ে অন্য পক্ষের কোনো বক্তব্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পাইনি। সেটা পাওয়ার পরই আমরা পরবর্তী  সিদ্ধান্ত নেব। দল পরিচালনার বিষয়ে রেজিস্ট্রেশন বা এসব বিষয়ে আইনগত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আমরা তার সবই নেব। একই সঙ্গে সাংগঠনিকভাবেও আমরা পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যেই আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে নতুন করে সম্মেলন করার দাবি উঠেছে।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close