সোমবার,  ২৩ এপ্রিল ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৬, ১৩:২১:৩২

মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষণায় আমরা হতবাক: আবুল বাসার

আবুল বাসার, জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন ‘বায়রা’-এর সভাপতি। মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার যে চুক্তি বাতিল করেছে, সে বিষয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নূরুর রহমান
 
সম্প্রতি মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে এবং কয়েক দিন আগের একটি চুক্তিও বাতিল করেছে, বিষয়টি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) পক্ষ থেকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বিষয়টি আমাদের জন্য দুঃখজনক ও অসম্মানের। কারণ আমরা ব্যবসায়ী মহল ও সরকার দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি করে আসছি। নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর চেষ্টা করছি, এই বিষয়ে আমরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজিও করিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ‘সরকার-সরকার পদ্ধতি’তে লোক নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ঠিক এমনই এক সময় তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে এবং কয়েক দিন আগে করা একটি চুক্তি বাতিল করেছে।    
যে ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ১৫ লাখ লোক নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। আমরা দুই দেশের সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু একেবারেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হঠাৎ জানানো হলো তারা শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের এই ঘোষণায় আমরা অবাক হয়েছি। এখনো ঠিক নির্দিষ্টভাবে আমাদের জানা নেই কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 
এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের সম্ভাব্য করণীয় কী?
আমার মতে, আমাদের সরকারের উচিত মালয়েশিয়া সরকার ঠিক কী কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করছে, সেই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তার সমাধান করা এবং প্রয়োজনে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে এই অপমানজনক সিদ্ধান্তের জন্য ব্যাখ্যা চাওয়া। কারণ চুক্তিটা হঠাৎ করে হয়নি। চুক্তি হওয়ার আগে দুই দেশ একাধিকবার মিটিং করেছে। তারপরই কেবল এমওইউ স্বাক্ষর হয়েছে। সেসব মিটিংয়ে দুই দেশের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়েছে। অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তারপর চুক্তি হয়েছে। কাজেই হঠাৎ কোনো পক্ষ চাইলেই চুক্তি বাতিল করতে পারে না। এখন এই চুক্তি বাতিল করতে হলেও দুই দেশ একসঙ্গে বসে বাতিল করতে হবে। এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ। তবে আমার মনে হয় মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখ লোকের প্রয়োজন আছে কি না, সেটা আগে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।
 
এই চুক্তি বাতিলের আগেও আরও একবার শ্রমিক নেওয়া বন্ধ বা চুক্তি বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। কেন আগের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না?
এর আগে ২০০৯ সালে প্রায় ৫৫ হাজার শ্রমিক নেওয়ার জন্য তারা জানিয়েছিল। সেই মতো বিপুল পরিমাণ লোক অর্থ খরচ করে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল কিন্তু তারা কোনো কারণ ছাড়াই লোক নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে আগ্রহী লোকজন বিপুল অর্থের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। দুই বছর আগেও তারা পাঁচ লাখ লোক নেবে ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল বিভিন্ন জটিলতা এড়িয়ে মাত্র চার হাজার লোক মালয়েশিয়া যেতে পারল। কেন এটা হলো, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। এটা সরকারের সফলতা নাকি ব্যর্থতা, সেটা আমি বলব না তবে এই চুক্তির আগে তাদের গত দিনের সফলতা-ব্যর্থতা বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা উচিত ছিল।
 
বৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথ বন্ধ হলে আবারও অবৈধভাবে যাওয়ার চেষ্টা বা মানব পাচার শুরু হয়ে যাবে কি না?
যদি বৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মানুষ আবার পাচারকারীর কাছেই যাবে। কারণ, মানুষ যখন বেকার থাকে, যখন তার পরিবার অসহায় অবস্থায় থাকে, তখন সে কাজ করার জন্য, অর্থ উপার্জন করার জন্য বেপরোয়া হয়ে পড়ে। তখন সে বৈধ বা অবৈধ নিয়ে চিন্তা করে না। এমনকি জীবনের চিন্তাও করে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তারা বিদেশে পাড়ি জমায়। এর সুযোগ নেয় মানব পাচারকারীরা। যার ফলে মানুষ বিপদে পড়ে। যে ঘটনা আমরা বেশ কিছুদিন আগে দেখেছি। আমরা দেখেছি থাইল্যান্ডের জঙ্গলে কীভাবে অবৈধ অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল, সেই নির্মম চিত্র। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না। কিন্তু তার জন্য বৈধ পথ খুলে দিতে হবে।
 
মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভরতা আমরা কীভাবে কাটাতে পারি? এই বিষয়ে সরকারের করণীয় কী?
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩৯টি দেশে আমরা জনশক্তি রপ্তানি করি। প্রতিবছর পাঁচ লাখ লোক বিদেশে কাজের সন্ধানে পাড়ি দেয়। কিন্তু এখন কিছু দেশে লোক পাঠানো বন্ধ আছে। যেমন লিবিয়া, আরব আমিরাত প্রভৃতি। তারা আমাদের দেশ থেকে লোক নেওয়ার জন্য চাহিদাপত্র পাঠালেও বাংলাদেশ সরকার লোক পাঠানোর ব্যাপারে অনুমতি দিচ্ছে না। সরকারের বক্তব্য সেখানে নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। অথচ অন্য দেশ ঠিকই লোক পাঠাচ্ছে। যদি এই দেশগুলোতে লোক পাঠানো আমরা উন্মুক্ত করে দিতে পারি, সেই সঙ্গে পৃথিবীর আরও অনেক দেশে লোক পাঠানোর ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারি, তাহলে আমাদের কেবল মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। এই ব্যাপারে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
 
কিন্তু কিছু কি অনুমান করা যাচ্ছে না- মালয়েশিয়া কেন লোক নেওয়া বন্ধ করল?
আমার মনে হয় এটা মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ সমস্যা। চুক্তির আগেই আমরা লক্ষ করেছি সেই দেশে শ্রমিক নেওয়ার বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নগুলো বিক্ষোভ করেছিল। পত্রপত্রিকায় বিরূপ লেখালেখি হয়েছিল। কিন্তু তারপরও দুই দেশের সরকার চুক্তি করেছিল। পরবর্তীকালে সম্ভবত মালয়েশিয়ার সরকার রাজনৈতিক চাপে পড়ে চুক্তি থেকে সরে এসেছে।
 
আপনি কি মনে করেন এখানে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে?
ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী মহল এটাকে খুব লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখে। সেটা আবার বিরোধী কোনো পক্ষের পছন্দ হচ্ছে না, তাই তারা যেকোনো মূল্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অথবা সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো দেশ আছে, যারা চায় মালয়েশিয়ায় যেন বাংলাদেশের লোক যেতে না পারে, তাহলে তাদের লোক পাঠাতে পারবে। হয়তো তারা কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করছে। তবে এগুলো সবই অনুমাননির্ভর কথা।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close