মঙ্গলবার,  ১৬ অক্টোবর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৬, ১৮:৪৪:২৮

ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারি সব কেনাকাটায় যুক্ত হচ্ছে ই-টেন্ডারিং

অনলাইন ডেস্ক
সরকারি সব কেনাকাটা যুক্ত হচ্ছে ই-টেন্ডারিংয়ে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি করা হচ্ছে। ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজি ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দরপত্রের প্রস্তাব, মূল্যায়ন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও ই-পেমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট অনেক কাজই স্বল্প সময়ে, সহজে এবং সমন্বিতভাবে করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে উঠে যাচ্ছে প্রচলিত কাগজের দরপত্র। বাংলাদেশে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। এর অংশ হিসেবে স্থাপন করা হচ্ছে শক্তিশালী ডাটা সেন্টার। এটি স্থাপন হলে ২৫ হাজার সরকারি ক্রয়কারী অফিস ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সিস্টেমে যুক্ত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
 
এ প্রসঙ্গে সিপিটিইউর মহাপরিচালক ফারুক হোসেন রোববার বলেন, ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই স্থাপন করা হবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার। অক্টোবরের মধ্যে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হবে। আর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব সরকারি সংস্থার ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা ও অনলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে।
 
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যই পরীক্ষামূলকভাবে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ২০১১ সালের ২ জুন এ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প হাতে নেয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে সরকারি চারটি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টেন্ডারিং চালু করা হয়। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সফলতার পরই দেশের সব সরকারি অফিসকে ই-টেন্ডারিংয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
 
সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক ই-টেন্ডারিংয়ের শুরু থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ২২ হাজার ৩৬ জন ঠিকাদার যুক্ত হয়েছেন। নিবন্ধিত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১টি। ই-পেমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১টি ব্যাংক রেজিস্ট্রার্ড হয়েছে। সারা দেশে এসব ব্যাংকের ২০০-এর বেশি শাখা ই-টেন্ডারিংয়ের জন্য ই-পেমেন্ট কাজ পরিচালনা করছে। ১৫ জুন পর্যন্ত ই-জিপি সিস্টেমে ৫৬ হাজার ৯০৯টি দরপত্র আহব্বান করা হয়েছে। তাছাড়া নিবন্ধিত উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে অন্যতম বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আর্ন্তজাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইউনিসেফ, চীন এবং নেদারল্যান্ড।
 
সিপিটিইউ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ই-জিপির আওতায় নিয়ে আসতে ইতিমধ্যেই নেয়া প্রস্তুতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- উচ্চ ক্ষমতার ডাটা সেন্টার স্থাপন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি স্থাপনের কাজ শেষ করা হবে। এটি স্থাপনে সম্প্রতি সিপিটিইউ এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় উচ্চ ক্ষমতার ওই ডাটা সেন্টারটি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের জাতীয় ডাটা সেন্টারে স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে এর মিরর ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে সিপিটিইউ কার্যালয়ে। অন্যদিকে শুধু নতুন ডাটা সেন্টার কেনার জন্যই সম্প্রতি অতিরিক্ত ৭৮ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক বোর্ড। অনুমোদনের পর বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অতিরিক্ত এ অর্থের মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২-এর আওতায় একটি শক্তিশালী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার কেনা হবে।
 
এ প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান চিমিয়াও ফান বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বাংলাদেশে সরকারি কেনাকাটায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। আমরা খুশি যে, বাংলাদেশের এই উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক যুক্ত রয়েছে। সবসময়ই দেশে ক্রয়সংক্রান্ত পেশাদার তৈরিতে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ই-টেন্ডারিং কার্যক্রম সফল করতে অন্যান্য প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে, যারা ই-টেন্ডারিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে বর্তমান পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত চলমান চারটি টার্গেট এজেন্সির মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে ল্যাব স্থাপন হচ্ছে। এই ল্যাবে ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। সিপিটিইউর সক্ষমতা বাড়াতে সিপিটিইউকে একটি কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন,পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) আওতায় রেগুলেটরি ইউনিট হিসেবে কাজ করছে।  
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close