সোমবার,  ২৩ এপ্রিল ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৬, ২০:১৪:৩২

বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের ত্রুটি চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়

সাম্প্রতিক দেশকাল প্রতিবেদক

আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করার পরেও সিম সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রতারণা রয়েই গেছে। এই জালিয়াতিকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, 'আমাদের কোনো ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি ঘটেছে আপনারই সামনে। আপনার অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে। কারণ আপনার আঙ্গুলে ছাপ কোথাও সংরক্ষণ হচ্ছে না। কাজেই যখন দিচ্ছেন ঘটনাটি তখনই করতে হয়েছে, যারা করেছে।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'রিটেইলার থেকে অপারেটর যেই এর সাথে জড়িত থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।' তিনি বলেন, 'রিটেইলারদের সহযোগিতায় একটি চক্র কিছু সংখ্যক সিম জালিয়াতি করেছে।'

ত্রুটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কোনো গ্রাহকের আঙুলের ছাপ কোথাও সংরক্ষণ করা হয়নি, এমন দাবি করে তারানা হালিম আরো জানান, 'খুব কম সংখ্যক সিম জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। আর এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।'

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি ব্যাপক অভিযান চালান, যাকে যেখানে যেভাবে পান পুরো গ্রুপ যারা আছে গ্রেপ্তার করে চালান দেন।'

তিনি জানান, 'আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সব মোবাইল ফোন অপারেটর তার গ্রাহককে কতটি সিম বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তার তথ্য জানাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো গরমিল পেলে গ্রাহক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে নম্বরগুলো জেনে অতিরিক্ত সিম বন্ধ করে দিতে পারবেন।'

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারাদেশে ঘটা করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া চলে। এই সময় পুনর্নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ কোটিতে দাঁড়ায়। ৩১ মের পর থেকেই অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করে দেয়া হয়।

নিয়মানুযায়ী, আঙুলের ছাপ ছাড়া কোন সিম বিক্রি করা যাবে না। কঠোর ও কঠিন আইনের মাধ্যমে সিম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।

কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে কী করে বাজারে প্রি-অ্যাকটিভেটেড সিম পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি জানিয়েছে, 'এটা নিয়ে বিটিআরসিতে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা বিষয়টি খুঁজে দেখছি। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। বিটিআরসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ কাজে সহযোগিতা দিচ্ছে।'

তবে পুলিশ জানিয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে হাজার হাজার মোবাইল সিম নিবন্ধন করে বিক্রি চলছে। এসব সিম প্রি-অ্যাকটিভেটেড হিসেবে খুচরা দোকানে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। যে কেউ এসব সিম কিনে নিতে পারেন। তার জন্য নতুন গ্রাহককে কোন ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হয় না। তবে এই সিমগুলো বেশিরভাগ কিনে নিচ্ছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে সিম জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে বুধবার রাতে ময়মনসিংহের সানকিপাড়া থেকে অবৈধভাবে বায়োমেট্রিক করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার দুইশ মোবাইল ফোনের সিম, অবৈধ ভিওআইপি, বায়োমেট্রিক যন্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close