রোববার,  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৬, ১৮:৫২:৩১

রেমিট্যান্স সংগ্রহে বাংলাদেশ দশম

হামিদ সরকার
গত ২০ বছরে দেশে রেমিট্যান্স-প্রবাহ জোয়ার-ভাটার মতো চলছে। তবে এই রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে ২০০৮ সাল থেকে ভারত শীর্ষে। আর বাংলাদেশ দশম স্থানেই রয়েছে।
 
২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ওই সময়ে এসেছে ৭২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, চীনে ৬৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন, ফিলিপাইনে ২৯ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, ফ্রান্সে ২৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার, মেক্সিকোতে ২৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন, নাইজেরিয়ায় ২০ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী-আয় আসে সৌদি আবর থেকে (২৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ)। এরপর আরব আমিরাত থেকে ২৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ওমান থেকে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে।
 
ভারত, চীন, ফিলিপাইনসহ উন্নয়নশীল দেশে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়ছে। পুরো বিশ্বের রেমিট্যান্সের সিংহভাগই তারা নিচ্ছে। ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া, মধপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা বেশ ভালো করছে।
 
অন্যদিকে বাংলাদেশে এখনো অবৈধভাবে ও ভিন্নপথে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা তাঁদের আয়ের অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। বৈধ পথে অনেকটা হয়রানির কারণেই তাঁরা অবৈধ হুন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী এই হার হলো ২২ শতাংশ। ওই জরিপ অনুযায়ী শুধু গত এক বছরেই (২০১৪-১৫) অবৈধ পথে এসেছে ২২ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। এতে সরকারও রাজস্ব না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর বিনিয়োগেও খুব কমই যাচ্ছে অর্থ।
 
আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি যা হচ্ছে, সেটার বেশির ভাগই আধা ও স্বল্প দক্ষ। যার কারণে তাঁরা প্রবাসে ভারতের শ্রমশক্তির তুলনায় কম বেতনে চাকরি করছেন। গত ৯ বছরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৬ সালে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ, যা ২০১৫ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে। স্বল্প দক্ষ ৪৫ থেকে ৬১ শতাংশে, আধা দক্ষ ৯ থেকে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে গত ৯ বছরে।
 
২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মার্কিন ডলারে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসেছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা বা ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। রেমিট্যান্সের যে অর্থ দেশে আসছে, তার মাত্র ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বিনিয়োগে যাচ্ছে।  বিনিয়োগের সিংহভাগ বা ৭৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ যাচ্ছে নির্মাণ খাতে। আর বেশির ভাগ মানুষই জমি বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে বিদেশে যায়। তাই রেমিট্যান্সের ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ অর্থ ওই ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যয় করছে তারা। ৮৬ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত আছেন। রেমিট্যান্সের ৭৮ শতাংশ আসে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে। ২০১৫ সালে প্রবাসী-আয়ের ৯৬ শতাংশ আসে নগদে এবং ৪ শতাংশ আসে দ্রব্যমূল্য হিসেবে। বিকাশের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ আসে। আর পাঠানো টাকার ৪৪ দশমিক ১৮ শতাংশ মা-বাবা এবং ৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পরিবারের স্বামী বা স্ত্রী গ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের পরিবার প্রতি গড় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৭৬ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫০ টাকা। আর পরিবারভিত্তিক প্রবাসী-আয়ের গড় পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২ হাজার ১৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা।
 
জরিপে দেখা গেছে, প্রবাসে কর্মরত বেশির ভাগই স্বল্প শিক্ষিত। তবে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত প্রবাসীর সংখ্যা খুবই কম। মোট প্রবাসীদের মধ্যে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। স্নাতক পাসধারী হলেন ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রবাসী একেবারেই লেখাপড়া করেননি। বিবিএস বলছে, বেশির ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি কম বয়সী। প্রবাসীদের মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩৮ শতাংশই হলেন পুরুষ এবং যাঁদের প্রায় ৫৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বয়স ৩৫-এর নিচে। আর প্রবাসী নারীদের ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। প্রবাসী-আয় গ্রহণকারী পরিবারের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ২৩ শতাংশ ভূমিহীন। অঞ্চলেভেদে প্রবাসীদের পেশায় বড় ধরনের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য কিংবা এশিয়ার দেশগুলোতে অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিক বা চাকুরে হিসেবে কর্মরত। আর দক্ষিণ আফ্রিক ও মধ্যপ্রাচ্যের অবশিষ্ট কিছু দেশে প্রবাসীরা ব্যবসা-বাণিজ্যেও নিয়োজিত রয়েছেন। 
 
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত ও প্রধান শ্রমবাজার। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে সংগঠিত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শ্রমিকদের চাহিদা কমে যাওয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ সমস্যা মোকাবিলা করছে। তবে নতুন নতুন বাজার ধরার চেষ্টায় রয়েছে সরকার। দক্ষ শ্রমিক না পাঠালে দেশে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বাড়বে না।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close