বৃহস্পতিবার,  ২৩ নভেম্বর ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৬, ১৩:৩৩:৪০

সঞ্চয়পত্রে নির্ভরতায় বাড়ছে সুদের বোঝা

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে সুদের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশই চলে যাচ্ছে সুদ দিতে। অথচ সরকার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য খাত থেকে আরো কম সুদে ঋণ করতে পারে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ করা সহজ হওয়াতে সরকার এদিকেই বেশি ঝুঁকছে। যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই সরকার ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে সঞ্চয়পত্রের উপর বেশি জোর দিচ্ছে। গেল অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ঋণ করা হয়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে। অথচ সারা বছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। বছর শেষে তা ২৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছে।
 
এদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ করলে সরকারকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদ দিতে হয়। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ করলে সুদ দিতে হয় প্রায় ১২ শতাংশ। এরপরও সরকার সঞ্চয়পত্র থেকেই বেশি ঋণ করছে। এতে সরকারের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সুদ বেশি হওয়া সত্ত্বেও সঞ্চয়পত্রে বেশি জোর দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হলো— সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন, বৃদ্ধ লোকজন এবং পেনশনের অর্থ দিয়ে অনেকে সঞ্চয়পত্র কেনেন। তাদেরকে সুরক্ষা দিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে এখন ধনীরাও ঝুঁকছেন।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ধনীরা তাদের আমানত ব্যাংক থেকে সরিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। তাই সরকারের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। অথচ উচ্চ সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে প্রতি বছর বড় অংকের অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমিয়ে (সুদ বাবদ ব্যয় কমবে) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়িয়ে দরিদ্রদের সুরক্ষা দিতে পারে। পাশাপাশি কিছু সঞ্চয়পত্র নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য চালু রাখতে পারে।
 
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদ অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাংক সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদে এ খাতের জন্য ইতিবাচক নয়। তাছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদ বেশি হওয়ায় সরকারের সুদ খরচও বেড়ে যাচ্ছে। তাই প্রতি বছর বাজেট বড় হলেও অনুন্নয়ন বাজেট বাড়ছে উন্নয়ন বাজেটের তুলনায় বেশি হারে। তাই বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে সুদ কমানোর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে সরকারকে।
 
জানা গেছে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সুদ বাবদ ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছে ৩৯ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা (১২ দশমিক ৪ শতাংশ) বেশি। আর সুদ বাবদ এ ব্যয় মোট বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাত্ বাজেটের ১২ শতাংশই খরচ হয়ে যাবে সুদ পরিশোধে।
 
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এক দেশে দুই ধরনের সুদের হার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। দুই ধরনের সুদ হারের মধ্যে ব্যবধান যত বেশি, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবও তত বেশি। ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে আমানতের গড় সুদের হার সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে। আর চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
 
পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রায় ১২ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করা হলে সরকারের সুদ ব্যয় অনেক বাড়তেই থাকবে। তাই এ খাতের বাইরে অন্য খাতের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হবে। নইলে উচ্চ সুদ দিতে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তেই থাকবে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ করলে সরকারকে উচ্চ সুদ দিতে হয়। এ প্রবণতা বন্ধ করে বন্ড মার্কেটে জোর দেয়া দরকার। এছাড়া সরকার ব্যাংক থেকে কিছুটা বেশি পরিমাণে ঋণ নিতে পারে। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close