সোমবার,  ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৬, ১২:৪২:২৬

সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে টাকার উৎস জানাতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা টাকার উৎস জানানোর বিধান করার জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এই বিধান না থাকায় এখানে যেমন কালো টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে, তেমনি মানি লন্ডারিংয়েরও সুযোগ রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকের মতো সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও টাকার উৎস জানানোর বিধান করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
 
আসন্ন এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এ চাপ আরও বেড়েছে। যে কারণে সরকার থেকেও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধান করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
 
সূত্র জানায়, ২০০২ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং আইন কার্যকর হয়েছে। সে কারণে ওই সময়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে কালো টাকা জমা রাখার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে কালো টাকা জমা রাখার সঞ্চয়ী উপকরণ বিয়ারার সার্টিফিকেট অব ডিপোজিট (বিসিডি) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গ্রাহকের নাম-ঠিকানা ছাড়াই শুধু একটি কোড নম্বরের ভিত্তিতে ব্যাংকে টাকা রাখা যেত। বর্তমানে ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে কোনো টাকা রাখলেই গ্রাহকের টাকার উৎস সম্পর্কে একটি ঘোষণা দিতে হয়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা টাকাও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে তার উৎস সম্পর্কে ঘোষণা দিতে হয়। সরকারি বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করলেই এ ব্যাপারে দিতে হয় আগাম ঘোষণা। কিন্তু সরকারি খাতের সঞ্চয়পত্রগুলোর একটি ছাড়া বাকিগুলোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টাকার উৎস সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দিতে হয় না। এ কারণে সন্দেহ করা হয়, সঞ্চয়পত্রে মানি লন্ডারিংয়ের বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব টাকা আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চলে যেতে পারে। এ কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি সীমিত করার জন্য বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) থেকে সরকারকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এপিজি অন্যান্য খাতের মতো সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও টাকার উৎস জানানোর বিধান করার তাগিদ দিয়েছে।
 
বর্তমানে সরকারি খাতে চারটি সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ৫ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্র, ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র, তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্প এবং ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। এগুলোর মধ্যে পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে টাকার উৎস জানাতে হয়। কেননা এই সঞ্চয়পত্র সবাই কিনতে পারেন না। শুধু পেনশনারই এটি কিনতে পারেন। বাকি সঞ্চয়পত্রগুলো কিনতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। যে কারণে সবাই কিনতে পারেন। ফলে এগুলো কিনতে টাকার উৎস জানাতে হয় না।
 
আগামী ২৩ জুলাই থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী এপিজির বার্ষিক সম্মেলন। ওই সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় আসছে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের  ৪০০ প্রতিনিধি। ওই সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি নিয়েও চুলছেরা বিশ্লেষণ হবে। সে সময়ে এ বিষয়টিও উঠে আসতে পারে। এ কারণে সরকার এ বিষয়ে এখনই কোনো বিধান করতে চাচ্ছে।
 
এদিকে অন্য একটি সূত্র জানায়, সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে টাকার উৎস জানানোর সরাসরি বিধান না থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই এ সম্পর্কে ঘোষণা চায়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এগুলোকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিমাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে টাকার উৎসের বিষয়টি এখানে চলে আসছে। আবার অন্য সংস্থাগুলোও এখানে তদারকি করে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের একটি ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে। এর বেশি কেউ বিনিয়োগ করতে পারে না। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে গ্রাহকের ছবি লাগে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব থাকতে হয়। এসব করতে জাতীয়পত্র লাগে। এসব বিধানের কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করার সুযোগ কম। তার পরও যেহেতু এই বিধানটি করার কথা উঠেছে, সেটি করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close