মঙ্গলবার,  ১৬ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৬, ১৫:৫৪:৫৩

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফাইব্রোমায়ালজিয়া যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা  বাড়ে। নারীরা এ রোগে পুরুষের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ভোগেন। পারিবারিক অশান্তি যেমন: দাম্পত্য কলহ, পরিবারে কোনো মদ্যপায়ী থাকলে, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, ছোটবেলায় নির্যাতনের কোনো ইতিহাস থাকলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। লিখেছেন ডা. মোহাম্মদ ইসরাত হাসান...
 
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যথা ও শারীরিক অসামর্থ্যতার একটি অন্যতম কারণ হতে পারে ফাইব্রোমায়ালজিয়া। এ রোগে এমন সব উপসর্গ দেখা যায়, যা সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ব্যাখ্যা করা যায় না। রোগের শুরুর দিকে ব্যথা এক জায়গায় থাকলেও আস্তে আস্তে দুই হাত, দুই পা, পিঠ ও ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সকালের দিকে রোগীরা চরম অবসাদগ্রস্ততায় ভোগে। কাজের ক্ষেত্রে কেউ কেউ চরম অসুবিধার সম্মুখীন হন, এমনকি ব্যথা আর অবসাদগ্রস্ততার কারণে কেউ কেউ আগেভাগে অবসরে চলে যেতে বাধ্য হন। ব্যথানাশক ওষুধে সাধারণত কোনো কাজ হয় না এবং ফিজিওথেরাপি দিলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। ফাইব্রোমায়ালজিয়া যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে। নারীরা এ রোগে পুরুষের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ভোগেন। পারিবারিক অশান্তি যেমন: দাম্পত্য কলহ, পরিবারে কোনো মদ্যপায়ী থাকলে, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, কম পারিবারিক আয়, ছোটবেলায় নির্যাতনের কোনো ইতিহাস থাকলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
 
এ রোগের কারণ
১. ঘুমের সমস্যা হলে;
২. শরীরের ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হলে যেমন: শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ব্যথা অনুভবের মাত্রা ও সহ্যক্ষমতা কমে গেলে, মস্তিষ্কে কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমাণ কমে গেলে, থ্যালামাসে রক্তের পরিবহন কমে গেলে, কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রায় তারতম্য হলে অথবা হাইপোথ্যালামো-পিটুইটারি-এড্রেনাল এক্সিসে কোনো সমস্যা হলে সাধারণত এ ধরনের রোগ দেখা যায়।
 
রোগনির্ণয়
এ রোগের বিস্তারিত ইতিহাস জেনে এবং শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে ফাইব্রোমায়ালজিয়া টেন্ডার পয়েন্টস নামে শরীরের ১৮টি ব্যথাপ্রবণ জায়গায় ব্যথার মাত্রা দেখে রোগনির্ণয় সম্ভব। রক্ত পরীক্ষা ও এক্সে-রে-তে তেমন কিছু ধরা পড়ে না, তবে অন্যান্য রোগ থেকে আলাদা করার জন্য এগুলো করা জরুরি।
 
এ রোগের চিকিৎসা
একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থেকে এ রোগের চিকিৎসা নিলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ রোগের চিকিৎসার ৩টি মূল লক্ষ্য-
 
১। আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার আত্মীয়স্বজনকে রোগ সম্পর্কে জানানো, বোঝানো এবং রোগের প্রকৃতি ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া। রোগীকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার জন্য একজন মনোবিদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
 
২। ব্যথা নিয়ন্ত্রণ। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ট্রিপটিন, প্রিগাবালিন ও গাবাপেনটিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া কিছু অ্যারোবিক এক্সাসাইজ যেমন : সাঁতার কাটা, দৌড়ানো, হাঁটা ও নিয়মিত যোগ ব্যায়াম অন্যতম।
 
৩। ভালো ঘুমের জন্য স্লিপ হাইজিন মেনে চলা, শুধু ঘুম পেলেই ঘুমাতে যাওয়া, প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমানোর কমপক্ষে ৪-৬ ঘণ্টা আগে থেকে ব্যায়াম না করা এবং চা-কফি না খাওয়া, ঘুমের নিয়মনীতি তৈরি করা ও মেনে চলা, যৌনমিলন ছাড়া শুধু ঘুমের জন্যই বিছানা ব্যবহার করা, ঘুমানোর আগে কিছু হালকা খাবার খাওয়া, ঘুমানোর ৯০ মিনিট আগে একটা হট-বাথ নেওয়া এবং বিছানা ও শোবার ঘর শান্ত-নিরিবিলি ও আরামদায়কের বিষয় নিশ্চিত করা।
 
আমাদের দেশে এ রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে যে-কেউ এ রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারেন।
 
এ রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা
- অবসাদগ্রস্ততা ও শারীরিক অসামর্থ্য
- খিটখিটে স্বভাব
- মনোযোগহীনতা
- হাত ও হাতের আঙুল ফুলে যাওয়া ও ঝিনঝিন করা
- মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, কোনো কানে বেশি শোনা
- ঘন ঘন ওষুধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়া ইত্যাদি
 
ডা. মোহাম্মদ ইসরাত হাসান
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
 
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close