বৃহস্পতিবার,  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৬, ২২:৪৭:০৯
কথা বলছে না প্রশাসন

জঙ্গি আস্তানা নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি!

অনলাইন ডেস্ক
এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোম্যাটিক জোন গুলশান (১ জুলাই, ২০১৬) ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় (৭ জুলাই, ২০১৬) দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাতে হামলার ঘটনায় নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার ঘটনায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম সামনে আসতে শুরু করেছে। এর আগেও একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
 
কর্তৃপক্ষ কোনও ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে কিনা জানতে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহম্মদ শাহজাহানকে ফোন করা হয়। ফোনকল ধরেও কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ ও তার ফোন নম্বর দেন তিনি। তবে ওই নম্বরে ফোন করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
 
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু বারবার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম সামনে আসছে, সেহেতু কোনও হেলাফেলা না করে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
 
গত ৩ বছরে একাধিক হত্যা ও নাশকতামূলক তৎপরতার ঘটনার সঙ্গে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির একাধিক ছাত্র ও শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। কেবল দেশের মাটিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় পুরো শিক্ষাঙ্গনে। কিন্তু নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে পুরা বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে প্রশাসন ফ্যাকাল্টি ঢেলে সাজানোর কোনও উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।
 
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির হামলাকারী ছাত্র নিবরাস ইসলাম নিহত হওয়া ও হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হাসনাত করিম সেখান থেকে মুক্ত হয়ে আসার পর ফের আলোচনায় আসে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম। এর পরপরই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় বৃহত্তম ঈদের জামাতে হামলাকারী আবির আহমেদ নর্থসাউথের শিক্ষার্থী এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কীভাবে আস্তানা গাড়লো জঙ্গিগোষ্ঠী, সে প্রশ্নটিও আবারও সামনে চলে এসেছে।
 
হাসনাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র শিক্ষক ছিলেন। ২০১২ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উত্থাপিত হলে হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে জানা যায়। তবে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পযন্ত হাসনাত সেখানে কাজ করে নিজেই ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছেন বলে তার বাবা প্রকৌশলী রেজাউল করিম দাবি করেছেন।
 
এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম ও রেজওয়ানুল হককে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তী সময়ে তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ফৌজাদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন তারা।
 
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে,নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রপন্থী দল হিযবুত তাহরীরের আস্তানায় পরিণত হয়েছে, এই নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি। সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি সক্রিয় থাকা দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এটি।
 
একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তাদের নানাভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া হয়। তবে চাইলে যে কেউই সেটি এড়াতে পারেন। বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় এবং এটা একেবারেই অজানা কিছু নয় তাদের কাছে।
 
গোয়েন্দা তথ্যমতে,১৯৯২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নর্থসাউথ ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের বীজ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।  তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলেন বিএনপি মতাদর্শী অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল আহাদ। উদ্যোক্তা হিসেবে আরও ছিলেন শায়েস্তা আহমদ,ব্যবসায়ী নুরুল এইচ খান,মাহবুব হোসেন ও জামায়াতের নীতিনির্ধারক সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান।
 
২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন চলাকালে শাহ আব্দুল হান্নান, এমবিআই মুন্সি এবং শমসের মবিন চৌধুরীর একটি কথোপকথন ইন্টারনেটে ফাঁস হয়ে যায়।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, নর্থসাউথ ইউভার্সিটির মধ্য থেকে যখন সাপ বেরিয়ে আসছে, তখন একটা গর্ত তো আছেই! তবে গর্ত কীভাবে অনুসন্ধান করবেন, সেটি দেখতে হবে। তারা কোন শিক্ষকদের নিয়োগ দিচ্ছেন,কোন উপায়ে দিচ্ছেন,জঙ্গি নেটওয়ার্ক হয়েছে কি না, সেগুলো তাদেরকেই করতে হবে। বাইরের কেউ এটা করে দেবে না।
 
তিনি বলেন, মনাশ ইউনিভার্সিটির নাম এসেছে যখনই তখন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পেরে তাদের সিস্টেম পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে আর আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারোর বক্তব্যই পাওয়া যাচ্ছে না। এর মানে তারা জনগণের ভেতর কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু দায়বদ্ধতা তাদের নেই।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নর্থসাউথ উইর্নিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহম্মদ শাহজাহান বলেন, আমি ছুটিতে। আপনি জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। তবে তার দেওয়া নম্বরে কল দিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাংলা ট্রিবিউন।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close