বৃহস্পতিবার,  ২৩ নভেম্বর ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৬, ১৮:১৪:২১

ওরা কেন জঙ্গি হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় জড়িতদের সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। হামলায় অংশ নেয়া ৬ জঙ্গি ছিল আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত। নামকরা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল থেকে শুরু করে উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি- সবই ছিল তাদের। কিন্তু তারপরও তারা উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু কেন? নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও পিতা-মাতার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়ে তারা কেনইবা বেছে নিল এই অন্ধকার পথ? নিশ্চিত অপমৃত্যুই এই ভ্রষ্ট মতবাদের একমাত্র শেষ ঠিকানা। কিন্তু তারপরও কেন তারা বিপথগামী হয়ে এ পথে পা বাড়াল? এর কারণ কি শুধুই আদর্শিক, না রাজনৈতিক কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো মহল বিশেষের ঘৃণিত স্বার্থের ফাঁদে পা দিয়েছে এরা। আর যারা এভাবে আত্মঘাতী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছে এদের ফেরানোর উপায় বা কী। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে রোববার বেশ কয়েকজন অপরাধ বিশ্লেষক, সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীর মতামত নেয়া হয়।
 
বিশ্লেষকরা সারমর্ম হিসেবে বলেছেন, ধনী পরিবারগুলোতে ক্রমেই পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের অভিভাবকরা নিজেদের বিশেষ ব্যস্ততা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অনেক পরিবারে বাবা-মা নিজেদের পরিমণ্ডল নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে, সন্তানদের তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। এর ফলে সন্তানরা নানা রকম হতাশায় ভুগতে থাকে। একপর্যায়ে পরিবারবিমুখ হয়ে অ্যাডভেঞ্চারের নামে তারা এভাবে বিপথগামী হয়ে পড়ে।
 
প্রসঙ্গত শুক্রবার গুলশানে জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া ৬ যুবকের মধ্যে তিনজন ইসলামের নামে উগ্র মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন কয়েক বছর আগে। এদের মধ্যে রোহান ইমতিয়াজ বাংলাদেশের অন্যতম নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাস্টিকায় পড়েছে। স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে সে ভর্তি হয়েছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আরেক জঙ্গি মুবাশ্বেরও স্কলাস্টিকা স্কুলের ছাত্র ছিল। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নিবরাস ইসলামও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। পরে আরও উন্নত শিক্ষার জন্য সে মালয়েশিয়ার মুনাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। কিন্তু অজ্ঞাত সম্মোহনী শক্তির হাতছানিতে তারা সবাই জীবনের মায়া ত্যাগ করে জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুব্ধ হয়েছিল।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, একটা বয়স থাকে যখন তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালোবাসে। অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকে অনেকে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে ভালোবাসে। অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকে তারা একপর্যায়ে অন্ধকার গলিপথে হারিয়ে যায়। তিনি বলেন, এছাড়া উচ্চবিত্ত অনেক পরিবারের সন্তানরা আন্দোলন, সংগ্রাম বা প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তেমন একটা ধারণা রাখে না। তাদের সামনে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না। এদের কেউ কেউ বিপথগামীদের পাল্লায় পড়ে ধর্মীয় কারণে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য এ পথে পা বাড়ায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবার থেকে তারা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে না। পরিবার যে সর্বোৎকৃষ্ট আশ্রয়স্থল তা অনেক ক্ষেত্রে সত্যিকার ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারছে না। ফলে পরিবারবিমুখ অনেক তরুণ বিপথগামী হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায়ও গলদ আছে। যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তারা দেশের মূল ধারার মানুষের সঙ্গেও মেশার সুযোগ পাচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতা ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই তৈরি হয় না। এ সংকট থেকে উত্তোরণের উপায় হিসেবে তিনি বলেন, তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখতে হবে। ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যুবসমাজকে ইন্সপায়ার করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের সামনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে সেই লক্ষ্য অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আনন্দময় পরিবেশ নেই। চিত্তবিনোদনের সুযোগও নেই। ফলে হতাশাগ্রস্ত তরুণরা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার পেছনে উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত কোনো ব্যাপার নয়। দুই শ্রেণীর লোকই এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। আগে আমাদের ধারণা ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বা দরিদ্র শ্রেণীর তরুণরা সহজেই জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ হয়। কারণ অর্থের বিনিময়ে তাদের ব্যবহার করা সহজ। কিন্তু এখন সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেরাও জঙ্গি আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে, মানুষের জীবনে সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। যেমন শিশু সংগঠন, পরিবার ও সর্বোপরি রাষ্ট্রকে আরও কার্যকরি হয়ে উঠতে হবে। পরিবার কাঠামোর সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তৈরি করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও বেশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, ধনী পরিবারের সন্তানরাও জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এক ধরনের আবেগ। কারণ ধনাঢ্য পরিবারে বেড়ে ওঠা তরুণরা বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। তারা সবকিছু ততটা যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চায় না। এদের অ্যাডভেঞ্চারের প্রলোভনে সহজেই মোটিভেট করা যায়। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানরা সাধারণত এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় না। কারণ তাদের ভেতর পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাড়না থাকে। তারা অ্যাডভেঞ্চারের জন্য জীবন বাজি রাখার ঝুঁকি নিতে চায় না। আবার উচ্চবিত্ত পরিবারে পিতা-মাতা নিজেদের আশপাশে একটা অলংঘনীয় জগৎ তৈরি করে রাখেন। পিতা তার বন্ধু-বান্ধব এবং ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে মা তার নিজের জগতে সারাক্ষণ ডুবে থাকেন। ফলে সন্তানকে তারা সময় দিতে পারেন না। এভাবে সবার অজান্তেই পরিবার থেকে সন্তান এক ধরনের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সন্তানের মস্তিষ্ক অলস হতে থাকে। আর অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। ফলে তার মাথায় নানা ধরনের উদ্ভট চিন্তা ঢুকে পড়ে। তার মানসিক কাঠামোতে দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বড় একটা ঘাটতি থেকে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি বলেন, এখন সমাজ অনেকটাই জটিল হয়ে পড়ছে। মানবতা নেই। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। সুশাসনও নেই। তাই মানবিক একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। জনবান্ধব আইন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে। জাগ্রত করতে হবে নৈতিক মূল্যবোধ।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, উচ্চবিত্ত পরিবারের কোমলমতি সন্তানরা সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তবতা দেখেনি। উচ্চবিত্ত অনেক পরিবার খুব বেশিমাত্রায় উচ্ছৃংখল অথবা খুব বেশি মাত্রায় ধর্মীয় গোঁড়ামিতে ডুবে থাকে। যেসব পরিবারে চরম উচ্ছৃংখলতা রয়েছে সেখানে সন্তানদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। আর যেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি রয়েছে সেখানে ছোটবেলা থেকেই সন্তানরা উগ্র মতবাদের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ নিয়ে বড় হয়। এর ফলে দুই শ্রেণীর সন্তানরাই অপরাধ কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটি পরিবারে এক ধরনের উদার মনস্ক ও সুস্থ বিনোদন নির্ভর সংস্কৃতি থাকতে হবে। সন্তানরা কোথায় কার সঙ্গে মিশছে তার একটা ধারণাও পিতা-মাতার থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি ধর্মশিক্ষা দেয়ার সময় তাকে এটা সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে যে, ইসলাম জঙ্গিবাদী কোনো ধর্ম নয়। ইসলাম উগ্র জঙ্গিবাদকে মোটেও সমর্থন দেয় না।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান  বলেন, আগে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ত। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পেছনে দরিদ্রতা একটা অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। কিন্তু এখন যেটি হচ্ছে তাকে এক ধরনের ‘ভ্রান্তিবিলাস’ বলা যেতে পারে। কারণ উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানরা যখন সহজেই সবকিছু পেয়ে যায় বা তার সব চাওয়াগুলোই পূর্ণ হয়ে যায় তখন তার এসব পাওয়ার সুখ এক ধরনের অসুখে রূপান্তরিত হয়। অদ্ভুত এই অসুখই উচ্চবিত্ত তরুণদের জঙ্গি মতাদর্শের দিকে ঠেলে দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারিবারিক মেলবন্ধন তৈরি করতে পারলে সন্তানদের বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। এজন্য প্রতিটি পিতা-মাতাকে সন্তানদের বেড়ে ওঠা ও তার সঙ্গী সাথীদের ওপর সচেতনভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবারে জবাবদিহিতার একটা সংস্কৃতিও বজায় রাখতে হবে। লাগামহীন যথেচ্ছাচার চলাফেরা করলে পরিবারে শাস্তি পেতে হবে এমন একটা মানসিকতা সন্তানদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি তার পরামর্শ হচ্ছে- ‘আপনার সন্তানটি হঠাৎ একেবারে চুপচাপ হয়ে গেল কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে তাকে কাউন্সিলিং করান।’ তিনি বলেন, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক তরুণ দেশ ছেড়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে যারা নিখোঁজ হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর তালিকা ধরে ধরে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলেই জঙ্গিবাদের এই বিষবাষ্প থেকে রক্ষা পাবে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র। সর্বোপরি মানুষের মহামূল্যবান জীবন এভাবে অকালে ঝরে যাবে না।
 
সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে জীবন বিপন্ন করে দেয়ার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই। কিন্তু তারপরও অনেক তরুণ যুবক সে বিপদসংকুল পথে পা বাড়াচ্ছে। সম্ভাবনাময় একেকজন মেধাবী তরুণ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে অবলীলায়। তারা বলছেন, শুধু ক্রসফায়ার বা আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের অভ্যন্তরে যেসব গলদ বিস্তৃতি লাভ করেছে তার মূলে যেতে হবে। এখনই তৃণমূল থেকে সমাজের আমূল সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবেই মিলবে কাক্সিক্ষত সমাধান। নয়তো ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে আরও ভয়ংকর। সূত্র: যুগান্তর  
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close