সোমবার,  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৬, ২১:১২:৪২

১৫ ঘণ্টায় জিজ্ঞাসাবাদ ৩০ মিনিট

অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বসিয়ে রাখা হয়েছিল আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে। সেই ১৫ ঘণ্টা তাঁর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, কারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কোনো আসামিকে এ সময় হাজির করা হয়েছিল কি না, এ সময় বাবুল আক্তারই-বা কী বলেছেন—এসব নিয়ে রহস্যের যেমন অন্ত নেই তেমনি নানা কথাও ছড়াচ্ছে চারদিকে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫ ঘণ্টা ‘জিজ্ঞাসাবাদের’ জন্য বসিয়ে রাখা হলেও মূলত বাবুল আক্তারকে শুক্রবার রাতে ১৫ মিনিট ও শনিবার বিকেলে ১৫ মিনিটের মতো ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করেছেন। এ সময় মামলাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলার চেয়ে বাবুল আক্তারকে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বেশি। তাঁকে জানানো হয়, ‘ওপরের সিদ্ধান্ত’ অনুযায়ী তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। তা না হলে বিপদে পড়তে হবে। বাবুল আক্তারকে দ্রুত তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলে সেখান থেকে চলে যান ওই কর্মকর্তারা।
 
এরই মধ্যে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের এসব তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরসহ ঢাকায় থাকা পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও জেনে গেছেন। তাঁদের মাধ্যমে এসব খবর প্রকাশ হচ্ছে সংবাদমাধ্যমেও।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা জানান, বাবুল আক্তারকে চাকরি ছাড়ার কথা বলা হয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু কী কারণে তাঁকে চাকরি ছাড়তে বলা হয়েছে সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি তিনি। ‘ওপরের সিদ্ধান্ত‘ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরও দেননি তিনি।
 
কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছিল, বাবুল আক্তারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে পোস্টিং নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কথা দেন পরবর্তী সময়ে বদলির সময় হলে তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চট্টগ্রামে দেওয়া হবে। কিন্তু এর আগেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
 
অন্যদিকে খুন হওয়ার পর মিতুর চরিত্র হননসহ বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমে আসায় বিষণ্ন হয়ে পড়েছেন বাবুল আক্তার। আত্মীয়দের জানাচ্ছেন তিনি নিজেই কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। তাঁর স্বজনরা জানান, বাবুল অক্তারকে সুকৌশলে মিতু হত্যা মামলার আসামি করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাবুল চুপ আছেন, নাকি তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—এরও কোনো সদুত্তর মিলছে না।
 
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১টার সময় বাবুল আক্তারকে তাঁর শ্বশুরের বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যায় মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে। সেখানে তাঁকে পরদিন শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাখা হয়। এই ১৫ ঘণ্টায় বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুই দফায় ৩০ মিনিটের মতো। তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে কথা হয় মাত্র এক বাক্যে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় মুছা নামের কাউকে তিনি চেনেন কি না। জবাবে বাবুল বলেন, ‘মুছাকে চিনি। মুছা পুলিশসহ আরো কয়েকটি সংস্থায় সোর্স হিসেবে কাজ করে। আমিও তাকে সোর্স হিসেবে কাজে লাগিয়েছি।’ জিজ্ঞাসাবাদকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় বাবুল আক্তারকে চাকরি ছাড়ার চাপ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নিয়েছেন—এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাবুল আক্তার কথা না বলার কারণে এ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানার জন্য বাবুল আক্তারের মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার একাধিকবার ফোন দিলেও তা তিনি ধরেননি। এমনিক তাঁর শ্বশুরের বাসায় গিয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি দেখা করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। সূত্র: কালের কণ্ঠ
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close