সোমবার,  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৬, ১৫:৩৩:৪৮

প্রাথমিকের বই ছাপাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানও

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপার কাজে বিদেশি প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণ ঠেকাতে চেয়েছিলেন দেশি মুদ্রাকরেরা। ২২ মুদ্রাকর ও প্রকাশক নিজেরা জোট বেঁধে গত বছর অস্বাভাবিক কম দরে কাজ নিয়েছিলেন। ফলে এ বছরের শুরুতে যেসব বই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেগুলো ছিল নিম্নমানের। এবার এমন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হতে দিতে নারাজ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী বছরের প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই ও শিক্ষক নির্দেশিকা বই ছাপার কাজ দেশি মুদ্রাকরদের পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রাকরেরাও পাচ্ছেন। কারণ সর্বনিম্ন দরদাতার মধ্যে কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
 
এনসিটিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতাদের মধ্যে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষক নির্দেশিকা বইয়ের পুরো কাজের সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠান। তবে যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে বলা যাবে কারা কাজ পাচ্ছে।
 
অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের ৪০ লাখ ৩২ হাজার শিক্ষক নির্দেশিকা বই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির সচিব ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে চুক্তিও হয়েছে।
 
এনসিটিবির সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৩৬ কোটি ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৯ কপি বই ছাপানো হবে। মোট বইয়ের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের বই ১ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩২ কপি, প্রাথমিকের ১০ কোটি ৫২ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৭ কপি, মাধ্যমিকের ২৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৩০ কপি, প্রাথমিক শিক্ষক গাইড ৬০ লাখ ১ হাজার ৭২৪ কপি, মাধ্যমিকের শিক্ষক গাইড ৪০ লাখ ৩২ হাজার ও ব্রেইল বই ৯ হাজার ৬৬ কপি।
 
এনসিটিবি জানায়, বইয়ের মান রক্ষার জন্য আগে যেখানে এনসিটিবি পরিদর্শক নিয়োগ করত, সেখানে এবার দাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরই পরিদর্শক নিয়োগ করে দেবে।
 
এনসিটিবির একজন সদস্য বলেন, দরপত্র মোতাবেক কাগজ, ব্যাংক জামানতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি কারও কাগজ কিংবা অন্য বিষয়ে ঘাটতি থাকে, তাহলে পরবর্তী সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাবে।
 
এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, যাচাইয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নমুনা কাগজের মান সন্তোষজনক হয়নি।
 
এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর কাজে দাতাদের অর্থ সহায়তা থাকে। এ জন্য এই স্তরের বই ছাপার কাজের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মাধ্যমিক স্তরের বই যেহেতু সরকারের টাকায় ছাপা হয়, সে জন্য ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি মাধ্যমিকের বই ছাপার বিষয়টি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির সচিব ইমরুল হাসান। তবে এই স্তরের সব বই ছাপার কাজ দেশি মুদ্রাকরদের মাধ্যমে করা হবে।
 
২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সাদা কাগজে প্রাথমিকের চার রঙের বই ছাপা হচ্ছে। এনসিটিবির একজন সদস্য বলেন, এবার প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কম দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বলেছেন, প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ১০ শতাংশে বেশি বা কম হলে সেই দরপত্র বাতিল করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি মেনে চলবে তারা।
 
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত বলেন, এবার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বইয়ের গুণগত মান যেন শতভাগ ভালো হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, গতবার শুধু দেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে মানের সঙ্গে কিছুটা আপস করতে হয়েছিল। সূত্র: প্রথম আলো  
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close