সোমবার,  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৬, ০২:০৯:১৩

৫ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী কী হবে?

অনলাইন ডেস্ক
শেষ কর্মদিবসে একেবারে শেষ সময়ে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাসের টাকা ব্যাংকে এসে পৌঁছানোয় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও খুলনার ডুমুরিয়ার পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাননি। ফলে তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ৩০ জুন সকাল থেকে বিকেল অবধি ব্যাংকে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকে তারা একরকম হতাশা নিয়ে শূন্য হাতে তারা বাড়ি ফিরে যান।
 
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বেসরকারি শিক-কর্মচারীদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। সরকার বেতন-বোনাস দেয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনোটাই পাননি তারা। ঈদের আগে ৩০ জুন শেষ কর্মদিবসের শেষ ঘণ্টায় বেতন-বোনাসের টাকা সোনালী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখায় এসে পৌঁছলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংক কর্তৃপ শিক-কর্মচারীদের হাতে টাকা তুলে দিতে পারেননি। উল্লাপাড়ায় বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিাপ্রতিষ্ঠান মিলে ১৭৫টি শিাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিাপ্রতিষ্ঠানে শিক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।
 
উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা জানান, সরকার শিক-কর্মচারীদের জন্য নতুন স্কেলে বোনাসের ঘোষণা দিলে তারা খুবই খুশি হন। তারা এবার ভালোভাবে ঈদ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৩০ জুন সোনালী ব্যাংক চত্বরে সকাল থেকে বিকেল অবধি টাকার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু সময় মতো ব্যাংকে টাকা না আসায় সবাই শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে যান।
 
সোনালী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক দেবেশ সান্যাল জানান, ৩০ জুন বিকেল ৩টার পর এখানকার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিকদের বোনাস ও জুন মাসের বেতনের টাকা ব্যাংকে এসে পৌঁছায়। কিন্তু প্রায় আড়াই হাজার শিক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস বিল গ্রহণ এবং তাদের নিজ নিজ হিসাবে টাকা পোস্টিং দেয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপরে ইচ্ছা থাকলেও শিকদের হাতে টাকা তুলে দেয়া সম্ভব হয়নি।
 
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, কলাপাড়ার ৪৭টি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সোলালী ব্যাংকের কলাপাড়া বন্দর শাখায় উৎসব ভাতা উত্তোলন করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন সবাই। ব্যাংকটিতে হিসাব পরিচালনাধারী উপজেলার চারটি কলেজ, ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৮টি মাদরাসার প্রায় এক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ফলে তাদের ঈদ উৎসব ম্লান হয়ে গেছে।
 
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল অগ্রণী, রূপালী ও সোনালী ব্যাংক থেকে শিক্ষকেরা তাদের নিজ নিজ হিসাব থেকে ৩০ জুন উৎসব ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। শিক্ষকেরা সোনালী কলাপাড়া বন্দর শাখা উৎসবের টাকা উত্তোলন করতে গেলে তাদের পরে আসতে বলে ফেরত দেয়া হয়।
 
খেপুপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস অর্নাস কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, উৎসব ভাতা না পেলে শিক্ষকদের পরিবার ঈদ করতে পারবে না। তিনি এ জন্য সোলালী ব্যাংক খেপুপাড়া বন্দর শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করেন।
 
সোনালী ব্যাংকের কলাপাড়া বন্দর শাখা ব্যবস্থাপক মোশারেফ হোসেন খান জানান, উৎসব ভাতার এমপিও সিট যথাসময়ে এসে পৌঁছেনি। তাই সব শিক্ষককে ঈদুল-ফিতরের উৎসব ভাতা দেয়া যায়নি। তবে কিছু শিক্ষককে বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে উৎসব ভাতার টাকা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
 
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় কর্মরত প্রায় দুই হাজার শিক্ষক-কর্মচারী জুন মাসের বেতন পাননি। তা ছাড়া মফস্বলের ব্যাংক খোলা থাকার শেষ দিনেও তারা ঈদের বোনাস তুলতে পারেননি। ফলে তাদের ঈদের আনন্দ ম্লান হতে চলেছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলায় এমপিওভুক্ত ৫৪টি স্কুল, একটি ভোকেশনাল স্কুল, ২৮টি মাদরাসা ও আটটি কলেজে দেড় সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য তারা বেতন ও বোনাসের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া ঈদ বোনাস পুরনো স্কেলে না নতুন স্কেলে এ ব্যাপারে শিক্ষা অধিদফতর ও শিা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রশি টানাটানির কারণে খানিকটা সময় কেটে যায়। পরে গত ২৭ জুন ঈদ বোনাস ছাড় করা হলেও নির্ধারিত ৩০ জুনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংকে স্মারক এসে পৌঁছায়নি। ফলে শিাপ্রতিষ্ঠান প্রধানেরা ব্যাংকে ঘুরে ঘুরেও বিলের কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় ঈদের আগে বোনাস না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
 
এ ব্যাপারে রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক শরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে জুলাই মাসের ৬-৭ তারিখে ঈদ, সেখানে জুন মাসের বেতন দেয়া হয়নি। তা ছাড়া ঈদের কোয়ার্টার বোনাস বিলম্বে দেয়ার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাও তুলতে পারেননি। ফলে এবার আমাদের ঈদের আনন্দ নেই।
 
মধুগ্রাম ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহিববুর রহমান বলেন, সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের যেখানে বোনাসসহ বেতন আগাম দেয়া হয়, সেখানে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের শুধু বোনাসটাও কী একটু আগে দেয়া যেত না?
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close