সোমবার,  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৬, ১২:০২:৫৮

তিস্তা ব্যারেজে দর্শনার্থীদের ভিড়

মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী
দেশের সর্ব বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। নগর জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে, শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরা মানুষসহ বিভিন্ন এলাকা হতে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষগুলো যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে এখানে এসে। ঈদের নামাজ শেষে দুপুর হতে না হতেই তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতি যেন তাই বলে দেয়।
 
পরিবার পরিজন নিয়ে ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের মিলন মেলায় ভরপুর তিস্তা ব্যারেজ এলাকা। তবে ভারি বৃষ্টিতে এখানে দর্শনার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় তাদের পড়তে হয়েছে চমর বিপাকে। এখানে শিশু থেকে শুরু করে, যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, গরিব-ধনী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের ও সর্বস্তরের মানুষদের এ যেন সত্যিই এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
 
পর্যটকদের বহনকারী বিভিন্ন সাজে সজ্জিত গাড়িগুলোতে শোভা পাচ্ছিলো নানান রঙ্গের বর্ণিল কাগজ ও বিভিন্ন ব্যানারে।
 
বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, উপজেলা শহর ও প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের নামে লেখা ব্যানার লেখা গাড়িগুলোতে পর্যটকদের মাইক বাজিয়ে নেচে গেয়ে আনন্দ করতে দেখা গেছে। বাস, মাইক্রোবাস, কার, জীব, পিকআপ, নসিমন, করিমন, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটগাড়ি, আর পায়ে হাটা মানুষদের উপস্থিতি যেন মনের খোরাকের মেটাবার সুন্দর উপভোগ্য এক পরিবেশ।
 
আর পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে তিস্তা অববাহিকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নানান রকম খাবার দোকানসহ বাড়তি বিনোদনের জন্য বসিয়েছেন চর্কিখেলা, মিনি লটারিখেলা, বেলুন টার্গেট সুট খেলাসহ বিভিন্ন সামাজিক খেলা। আর এখানে বাড়তি বেচাকেনায় দোকানীরাও বেশ খুশি।
 
আরো বেশি বিনোদন উপভোগের জন্য নদীর ধাঁরে এখানে প্রস্তুত রয়েছে দুটি নৌকা এক করে মোট ৪০সেট নৌকা। জনপ্রতি মাত্র ১০/২০ টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের নিয়ে তিস্তার নদীর বুকজুড়ে ভ্রমণ করাতে। এ ছাড়াও মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে ছোটাছুটি, চুড়ই ভাতি, মাঠে বসে আড্ডা, নদীর উপরে বেধে রাখা লঞ্চ, ইস্প্রিট বোটে বসে বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তোলা, সামিয়ানা টেনে সারি বেধে খাবার খাওয়া, মুক্ত পরিবেশে মন খুলে খোশ গল্প করা আনন্দের মাত্রাকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
 
নীলফামারী থেকে ঘুরতে আসা ভ্রমণপিপাসু রুবেল, ডোমার থেকে ঘুরতে আসা রাসেল, সৈয়দপুর থেকে ঘুরতে আসা রানা, রংপুর থেকে ঘুরতে আসা সাগর, জাকীর জানান, নামাজ শেষ করেই আমরা বন্ধুরা বাসে করে তিস্তা ব্যারেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছি। এখানে এসে ব্যারেজও দেখা হয়েছে আবার বন্ধুরা মিলে নাচ-গান, ছুটা-ছুটি, নদীর পাড়ে বসে আড্ডাসহ বেশ হৈ হুল্ল করে অনেক মজাও করেছি। তিস্তার এই এলাকাটি সত্যিই বেশ উপভোগ করার মতই।
 
লালমনিরহাট থেকে ঘুরতে আসা বিথি, সেলী, জেমি জানান, আমরা পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে এখানে এসেছি তিস্তা ব্যারেজ, ফরেস্টসহ সম্পূর্ণ এলাকাটাই ঘুরে ফিরে দেখবার জন্য। মজা করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। সত্যি এখানে অনেক মজা করেছি আমরা। দীর্ঘক্ষণ নৌকা ভ্রমণ করাসহ আস-পাশের অনেক বাঁধ, নদীরপাড়, অবসরের চারিদিক ঘুরে অনেকটা তৃপ্তি পেয়েছি।
 
ডিমলা বাবুর হাট সদর থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী গুলশানা জানান, ‘ঢাকায় থাকি কখনো কখনো দম বন্ধ হয়ে আসে। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে এখানে বেড়াতে এসে প্রাণভরে শ্বাস নেই ও অনেক আনন্দ করি।
 
এখানে বেড়াতে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের এবারও জোর দাবি জানান, তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার। তারা বলেন, এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে কোটি কোটি টাকা, আর মানুষ পাবে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য উপযুক্ত একটি স্থান। কর্মসংস্থান হবে এলাকার শত শত বেকার যুবকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
 
তিস্তা এলাকার গোলজার মেম্বর (৫৫) সোহরাফ (৫০) সোহাগ (৩৬) বাবু (২৮) জিয়া (২৭) আবুল (৪৫) মনির (২২) লালমিয়া (৩২) মইনুল হকসহ (৩২) একাধিক বাসিন্দা বলেন, শুধু ঈদেই নয়, বিশেষ কিছু দিন ও দিবসে, যেমন-নববর্ষ, পুজাঁ, ভালোবাসা দিবস, বিজয় দিবস, শীতে পিকনিক খেতে আসাসহ বছরের বারোমাসেই এখানে  মাঝে মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে সফরে আসেন। তাই সরকারের প্রতি-দর্শনার্থীসহ এলাকাবাসীর অতীতের মতই বর্তমানেও জোর দাবি যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close