রোববার,  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৬, ১৯:৫৫:৫৯

ঐতিহ্যের বুড়িগঙ্গায় বিনোদন

ইবনুল সাঈদ রানা

ঢাকাবাসীর জন্য বুড়িগঙ্গা সব সময়ই প্রাণের উৎস। তারা যখনই বুড়িগঙ্গায় যায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। হোক যাতায়াত, হোক কর্মক্ষেত্রে বিচরণ, হোক বেড়ানো-সেখানে সবসময়ই তাদের পদচারণা রয়েছে। এই বুড়িগঙ্গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস, যাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা; আর সেই ঢাকাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ লোকের বসবাস।

বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুললেও এখন পর্যন্ত দমাতে পারেনি এর উত্তাল যৌবন। দখল হয়েছে এর কিছু অংশ তবুও আশার আলো এখনো নিভে যায়নি। হতাশায় নিমজ্জিত হইনি আমরা। যতটুকু রয়েছে সেটুকুর জন্য ঢাকাবাসীর চেষ্টা আন্তরিকতা রয়েছে বলেই আজও উত্তাল বুড়িগঙ্গা।

ঐতিহ্যের বুড়িগঙ্গায় বিনোদন

বর্তমানে যে বুড়িগঙ্গা আপনারা দেখছেন তা অবশ্য উজানের বুড়িগঙ্গা কামরাঙ্গীরচর খুলামারিঘাট এলাকায়। সদরঘাট, সোয়ারী ঘাট, পোস্তগোলা বা পাগলা ফতুল্লায় হয়তো কিছুটা দূষণ আছে। কারণ এখনো ঢাকার অধিকাংশ বর্জ্য এবং দৈনন্দিন কাজের ব্যবহৃত পানি-মল বুড়িগঙ্গাতেই নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। তা বন্ধ করলেই বুড়িগঙ্গা ফিরে পাবে আগের রূপ ও ঐতিহ্য।

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ বুড়িগঙ্গা পারাপার হয়। এই বুড়িগঙ্গায় জীবনের চলচল, অর্থনৈতিক অবলম্বন তাদের। যেখানটা নিয়ে কথা বলছি সেটি কামরাঙ্গীরচর খোলামুড়া ঘাট এলাকা। এখান দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পারাপার হচ্ছে। এপারে কামরাঙ্গীরচর আর ওপারে কেরাণীগঞ্জ; মাঝখানে উত্তাল বুড়িগঙ্গা।

বিকেল বেলায় রাজধানীর নারী-পুরুষ-শিশু-আবাল-বৃদ্ধবনিতার বিনোদন এই নদীকে ঘিরে। বুড়িগঙ্গা রক্ষায় হয়েছে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক আন্দোলন এবং সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ। এ নদীর পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলেই আজ আমরা নদীতে অবগাহন করতে পারছি। নদীতে বিনোদন পেতে নৌকায় করে বেড়াতে পারছি।

ঐতিহ্যের বুড়িগঙ্গায় বিনোদন

আসুন আমরা আরো সচেতন হই। আগামী দিনের মানুষের জন্য আরো সুন্দর পরিবেশ রাখার প্রত্যয়ে বুড়িগঙ্গাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি।

এবারের ঈদ উৎসবে মিলিত হয়েছিলেন বুড়িগঙ্গা রক্ষায় আন্দোলনরত সামাজিক সংগঠন স্বপ্নের সিড়ি, গ্রীন মাইন্ড সোসাইটি, স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং কামরাঙ্গীরচর মানবাধিকার সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ। সকলে নৌকায় ঘুরে দেখেছেন নদীর দূষণ, দখল এবং মানুষের বিনোদন চাহিদা। মানুষ এখনো চায় বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত থাকুক। তারা চায় দখলমুক্ত হোক বুড়িগঙ্গা। এখন প্রমাণ হচ্ছে পরিবেশ সম্মত এবং স্বাস্থ্য সম্মত বিনোদন এই বুড়িগঙ্গায় সম্ভব।

লেখক: ইবনুল সাঈদ রানা, চেয়ারম্যান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close