শনিবার,  ২১ এপ্রিল ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৬, ১১:১৪:২৪

অব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষার অক্টোপাসে বিপন্ন স্কুল শিক্ষা

এ কে এম শাহনাওয়াজ
দেশের চলমান শিক্ষার মান নিয়ে ইদানীং বেশ কথা হচ্ছে। মানের নিম্নসূচকের কথা বলে হতাশা প্রকাশ করছেন টকশোয় আসা বিশিষ্টজনরা। পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। বক্তৃতা-বিবৃতিতেও হতাশা প্রকাশ করছেন অনেকে। মান যে নেমে যাচ্ছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে হতাশার সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি। এ কারণে একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকেও অপরাধী মনে হয়। শিক্ষার অধোগতি চলছে অনেক দিন থেকে। আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক সহকর্মীর নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে লেখালেখির পর অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আমার অনেক সহকর্মী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বাস্তব অভিজ্ঞতায় মাধ্যমিক-নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের কারিকুলাম তৈরি ও বই প্রকাশ নিয়ে নানা অরাজকতার কথা বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের মনোকষ্টের কারণ হয়েছি।
 
বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে এবং নানা পর্যায়ে সামান্য খোঁজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ার একটি পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার মান নেমে গেল- বিষয়টি এমন নয়। আর মান নেমে যাওয়ার জন্য কেবল ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানই দায়ী নয়; এর আরও নানা অনুষঙ্গ রয়েছে।
 
দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে শিক্ষার ভিত তৈরিতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে দেখা যায়নি। অনেকে এজন্য নানা ধারার শিক্ষা প্রচলিত থাকার কথা বলেছেন। গণমানুষের ধারা প্রাইমারি শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা। বড় মানুষদের ধারা ইংরেজি মাধ্যম এবং এ লেভেল ও লেভেল। সাধারণভাবে বলা হয় নীতিনির্ধারকদের অধিকাংশের ছেলেমেয়ে, ভাইবোনরা সনাতন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়ে না। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার ধারা ও চলমান সংকট তাদের কাছে ততটা স্পষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন না। প্রকৃতপক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্বের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে না। ফলে লাগসই না হলেও স্ব-স্ব পাণ্ডিত্য অনুযায়ী নীতিনির্ধারণ করেন। তাই ফলাফল দেখতে গিয়ে ‘অমানিশা’ই দেখতে হয় বেশি।
 
অতি সম্প্রতি পিইসি পরীক্ষা বাতিল হওয়া, না হওয়ার নাটকীয়তা দিয়ে শুরু করতে চাই। আমাদের দেশ এখন ‘সবাই রাজার দেশ।’ যে যখন ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ পান, প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না। সর্ববিষয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ ভাবতে পছন্দ করেন। সম্ভবত ২০০৯ সাল থেকে এসএসসির আগে গণমানুষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ স্কুল ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন উপহার হিসেবে আরও দুটো সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাবলিক পরীক্ষার আদলে পরীক্ষা হবে। সুতরাং পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নামে দুটো পরীক্ষার আয়োজন ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হয়ে যায়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সরকারগুলো যেহেতু ‘জাতি গোল্লায় যাক, আমরা কৃতিত্বের ঢাক বাজাবো’ নীতিতে বিশ্বাসী তাই আলোচনা-সমালোচনার তোয়াক্কা না করে এগুলো চালু হয়ে গেল। বাস্তব জীবনে এসব সার্টিফিকেটের কী মূল্য, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমি ক্ষুদ্র মানুষ। আমার অনুর্বর মস্তিষ্ক তখন হায় হায় করে উঠেছিল। আমি আমার প্রতিক্রিয়া কাগজে লিখেওছিলাম। কে এসবে পাত্তা দেয়! আমার আতংকের বড় কারণ ছিল, শিশুদের অনেক জ্ঞানী বানানোর জন্য এমনিতেই বিস্তর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে শৈশব কেড়ে নেয়া হয়েছে। এবার এসএসসি, এইচএসসির মতো ‘এ প্লাসের’ মোক্ষলাভের জন্য নতুন দৌড় শুরু হবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। শিক্ষা নয়, এ প্লাসের লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য কোমর বাঁধবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রশ্নফাঁস আর নকলের রাজ্য সাম্রাজ্যের রূপ পাবে। জীবনের একেবারে শুরুতেই শিক্ষার্থীরা অপরাধ জগতের সঙ্গে পরিচিত হবে। গাইডবইয়ের প্রকাশক ও কোচিং ব্যবসায়ীরা বিশেষ উৎসব পালন করবে। এ প্লাস বিজয়ী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ গণ্ডিবদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার বৈতরণী পাড়ি দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পর তাদের জানার সীমাবদ্ধতা আমাদের হতাশ করে।
 
আতংকিত হয়ে ভাবছিলাম, এখন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চাকে আরও সীমাবদ্ধ করে ফেলতে প্রাইমারি পর্যায় থেকে ফাঁদ পাতা হল। সে সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কেউ কেউ সংবাদপত্রের চিঠিপত্রের পাতায় লিখেছিলেন, এভাবে নীতিনির্ধারণ করে ক্ষমতাবানরা কি ভিন্ন ধারায় পড়ালেখা করা নিজ পরিজনদেরই ভবিষ্যতে দেশের ক্ষমতা ও প্রশাসনে অধিষ্ঠিত দেখতে চান? পরীক্ষাগারে গিনিপিগই তো ব্যবহার করা হয়! মরলে এ নিকৃষ্ট জীবই মরবে! নিজেদের সন্তান হৃষ্টপুষ্ট থাকুক ইংরেজি মাধ্যমে। ওখানে পরীক্ষা নিয়ে নিরীক্ষার বালাই নেই।
 
সে সময় নীতিনির্ধারকদের কমিটিতে থাকা কোনো কোনো শিক্ষক সদস্যের হতাশাজনক বক্তব্যও আমরা শুনেছিলাম। বলা হয়েছিল, নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে শুধু জেএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ‘সবাই রাজার দেশে’ একজন ক্ষমতাবান আমলার ইচ্ছায় সুরুৎ করে ঢুকে পড়ে পিইসির ধারণা। এরপর বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই ক’বছর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কান্নাকাটি আমরা অনেক শুনেছি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে ইতিমধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মাইন্ডসেট হয়ে গেছে, এ প্লাস আর স্বর্ণখচিত এ প্লাস না পেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সামাজিক অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে যাবে। ফলে অচিরেই এ প্রভাব এসে পড়ল পিইসি, জেএসসির ক্ষেত্রে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে শিশু তার শিক্ষাকে প্রীতিকর বিষয় না দেখে ভীতিকর ভাবতে থাকল। প্রতিযোগিতায় টেকার জন্য অভিভাবক সন্তানকে স্কুল আর কোচিংয়ে বন্দি করে ফেললেন। দুরন্ত শৈশব বলে আর কিছু থাকল না। শিক্ষাটা হয়ে গেল ছকবন্দি- পরীক্ষা ও গ্রেডনির্ভর। বৈপরীত্য হচ্ছে, এর মধ্যে সৃজনশীল প্রশ্ন চাপিয়ে দিয়ে একদিকে শিক্ষার্থীর ভেতরের মৌলিকত্ব আর বুদ্ধিমত্তার কর্ষণ করানোর অভিলাষ প্রকাশ করা হল, অন্যদিকে পিইসি, জেএসসির অভিঘাতে রক্ত-মাংসের শিশুকে রোবট বানানোর পথ পাকা করা হল। গাইডবই ব্যবসায়ীরা নীতিনির্ধারকদের জয়গান গাইতে গাইতে ছাপাখানার যন্ত্র সচল করল। ম্যানেজ করতে লাগল নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। আমরা নীতিনির্ধারণের আগে এর পরিণতি ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবি না বলে শেষে গিয়ে সব হযবরল হয়ে যায়। একদিক থেকে ক্ষমতাবানদের কণ্ঠে নোট ও গাইডবই নিষিদ্ধ এবং কোচিং বন্ধের কথা বলতে শুনি; আবার তাদেরই নীতিনির্ধারণে এসব বিকাশের প্রণোদনা দিতে দেখতে পাই।
 
জল ঘোলা করার এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ২১ জুন সুসংবাদ দিয়েছিলেন। স্বস্তি ফিরে এসেছিল অভিভাবকদের মধ্যে। বলা হয়েছিল, এ বছর থেকে পিইসি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ নতুন করে আগুন লাগাল মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত। বলা হল, এক্ষুনি বাতিল হচ্ছে না পিইসি পরীক্ষা। এজন্য যেসব কারণ ব্যক্ত করা হল, তা আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। বাতিল নয়, বরং নতুন কোনো পদ্ধতি আরোপ করতে গেলে বিবৃত যুক্তিকে যৌক্তিক মনে হতো। মনে হচ্ছে, এখানেও সেই একই কথা প্রযোজ্য- ‘আমরা সবাই রাজা...।’ ফলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পণ্ডিত ও বিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের প্রয়োজন হয় না এখানে। দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বলে সর্ববিষয়ের বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের পরামর্শ তোয়াক্কা না করে এমন একটি জাতীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন অবলীলায়। এ ঘটনার পর আমার এক স্বভাব সমালোচক বন্ধু তার স্বভাবসুলভ বাঁকা চোখে তাকিয়ে আমাকে বললেন- সরকারিভাবে যেসব সিদ্ধান্ত বা নীতি চাপিয়ে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়, তা অসার বা ক্ষতিকর প্রমাণিত হলেও তা থেকে তারা সরে আসে না। এটাকে এক ধরনের পরাজয় মনে করা হয়।
 
পিইসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল হলে টেলিভিশনের টকশো সচল হয়। এমনি এক টকশোয় পিইসি চাপিয়ে দেয়া সাবেক আমলা টেলিফোনে নিজের সাফাই গাইলেন। তিনি বললেন, এই পরীক্ষাগুলোর সুফল তারা পরিসংখ্যান দিয়ে দেখেছেন। আগের চেয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। যেন ঝরে পড়া ঠেকানোর আর কোনো পথ ছিল না। তার পরিসংখ্যান সত্য মানলেও বলতে হয়, শিক্ষার গুণগত মানের কথা না ভেবে পাঁচটা নৈরাজ্য সৃষ্টিকে আশকারা দিয়ে ঝরে না পড়ার সংখ্যা বাড়িয়ে কি শিক্ষার মান উন্নত করা যায়? শুনে আমার সেই লাজুক ভদ্রলোকের কথা মনে পড়ল। থাকার মধ্যে তার পরনে আছে একটি লুঙ্গি। তরুণ-তরুণীরা বরযাত্রী হয়ে আসছেন এ পথে। উদোম গায়ে লজ্জায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা তার। এ অবস্থায় দ্রুত লুঙ্গি টেনে শরীর ও মুখ ঢাকলেন ভদ্রলোক। নিম্নাঙ্গের কথা না ভেবে লজ্জা থেকে বাঁচলেন বটে!
 
আমি জানি না, আমাদের মহাবিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার কথার মূল্য থাকবে কিনা! অবশ্য নতুন কোনো কথা আমি বলব না। বহুজনের বলা কথাই বলব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে গিয়ে যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভিত্তিমূলে দুর্বলতা দেখি, তখন বুঝতে পারি- এখানে স্কুল পর্যায়ের একটি দুর্বলতা রয়ে গেছে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষাদানে নানা আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে ঠিকই; তবে মেধাবী ফলাফল করা গ্রাজুয়েটদের এখানে শিক্ষক হিসেবে আসার পথ তৈরি করা হয়নি। যে শিক্ষকরা আলোকবর্তিকা হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, সমাজে অর্থ-বিত্ত আর সম্মানে মাথা উঁচু করে তাদের বাঁচার সুযোগ নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তার ওপর অর্ধশিক্ষিত টাউট রাজনীতিকদের অনেকেই অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের মাথা। শিক্ষকদের সম্মান নয়- তুচ্ছজ্ঞান করে নানা নির্দেশদানেই তারা বেশি অভ্যস্ত। এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সুশিক্ষা প্রদান কতটা সম্ভব, তা সহজেই অনুমেয়। শোনা যায়, বেসরকারি স্কুলগুলোয় শিক্ষক নিয়োগ এখন মেধাক্রমের বদলে রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থ-বাণিজ্যের ভিত্তিতে হচ্ছে। দেশে এখন ডিজিটালাইজেশনের উৎসব চলছে। আমাদের বয়সী সবাই মনে করতে পারবেন, এনালগ পদ্ধতিতে পড়া আমাদের বানান ও ভাষার শুদ্ধতা শিক্ষকরা স্কুলেই সেরে দিয়েছিলেন। এ প্রাতঃস্মরণীয় শিক্ষকদের কথা এখনও স্মরণ করি। এখন ঝকঝকে সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তাদের একটা বড় অংশের ভাষা-বানান শেখাতে হয় আমাদের। আসলে বৃত্ত ভরাটের নিরীক্ষায় দুদণ্ড লেখার সুযোগ পায় না শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে যুক্ত হয় দুর্বল শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান। কোচিং বাণিজ্য আর গাইড সংস্কৃতির কষাঘাত তো আছেই! সাম্প্রতিক সময়ে এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি অলিখিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আর তা হচ্ছে, পাসের হারে বিস্ফোরণ ও গাদা গাদা এ প্লাস দেয়ার জন্য সরকারি আদেশ।
 
শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য যারা এতসব নিরীক্ষা করছেন, সেসব মহাত্মনদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে- তারা প্রত্যেকেই তো সনাতন পদ্ধতিতে পড়ে এসেছেন। তখনও বছর বছর স্কুল-পরীক্ষা হতো। পিইসি, জেএসসি না থাকায় নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ হয়ে বেড়ে ওঠেননি। এটা ঠিক, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুর আধুনিকায়ন হতে পারে। বাস্তবতার নিরিখে নানা সংকট, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে শিক্ষা গবেষণায় নিবেদিত যারা, তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে কি শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রায়োগিক চিন্তা করা যায় না? আমার একজন অভিজ্ঞ বন্ধু বলেছিলেন, এ দেশের সরকারি পর্যায়ে এক অদ্ভুত সুযোগ আছে। শিক্ষা নিয়ে নতুন নীতি আরোপের আগে জ্ঞান নেয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের চেয়ে আমলাদের উপস্থিতি বেশি থাকে। তারা কোনো একটি দেশের মডেল এনে চাপিয়ে দিতে বেশি পছন্দ করেন। এ দেশের বাস্তবতায় তা লাগসই হল কিনা, তা দেখার দরকার নেই। আর এ সঙ্গে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের জীবাণু তো সক্রিয় থাকেই।
 
এতসব ব্যাধি না সারিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গিনিপিগ বানিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের আশা করব কীভাবে! প্রশ্ন হল- শিক্ষানীতিকে পাশ কাটিয়ে অদ্ভুত সব নিরীক্ষার কুফল কেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভোগ করবেন?
 
এ কে এম শাহনাওয়াজ: অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnawaz7b@gmail.com
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close