বুধবার,  ২৪ জানুয়ারি ২০১৮  | সময় লোডিং...
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৬, ২০:২৫:৩০

ব্রিটেনের ভোটের ফলে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ আছে

আলতাফ পারভেজ
ব্রিটেনের গণভোটের ফলাফল ‘গ্লোবালাইজেশন’ ধারণার জন্য প্রথম বড় ধরনের ধাক্কা। এটা ‘শেষের শুরু’ কি না- সেটা এখনি বলা মুশকিল। তবে ইউরোপে উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রকোপ আরও বাড়বে এবং বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে এই ভোটের প্রতিক্রিয়া নিশ্চিতভাবেই সুনির্দিষ্ট হবে- যদিও তার বাস্তব চেহারা বুঝতে অন্তত এক বছর তো অপেক্ষা করতেই হবে।
 
ব্রিটেন ও ইউ-এর অন্য ২৭ দেশ 'ডিভোর্স'-এর শর্তাদি নিয়ে কীভাবে দরকষাকষি শুরু করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
 
তবে ব্রিটেনের ইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি খারাপ সংবাদ অবশ্যই- এবং এশিয়ার অর্থনীতিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করেছে তা। এটা অপ্রত্যাশিত নয়।
 
এতদিন লন্ডনে অফিস খুলে এশিয় ইনভেস্টররা ইউরোপজুড়ে ব্যবসা করেছেন। এখন নতুন করে অফিস খুলতে হবে ব্রাসেলস কিংবা প্যারিসে। প্রয়োজন হবে নতুন বিনিয়োগ। আবার ব্রিটেনের সংগেও নতুন করে নেগোশিয়েট করতে হবে। সামগ্রিক ফলাফল ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা।
 
ব্রিটেন এশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম বড় বাজার। বিশেষত কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, হংকঙ ও সিংগাপুরের অর্থনীতিতে এর ধাক্কা হবে বেশ বড়। কারণ এ চার দেশের বড় বাজার রয়েছে ব্রিটেনে। ব্রিটেনের চাহিদার কমতি মানেই এই চার দেশের উপর খারাপ প্রতিক্রিয়া।
 
আবার এশিয়ার অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ভিন্নভাবে। কারণ ব্রিটেনের ভোট ইউ-এর অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক যে নেগেটিভ মুড তৈরি করেছে তা এশিয়ার সকলকেই এফেক্ট করবে। সেখানে সকলের রফতানি পণ্যের বাজার রয়েছে।
 
উদ্বেগের কারণ আছে তাই বাংলাদেশেরও।
 
বাংলাদেশের রফতানির ১০ ভাগ হিস্যা ব্রিটেনের সংগে। এর ৮০ ভাগ আবার শুধুই পোশাক। এক্ষেত্রে ইউ-এর নীতির আলোকে ডিউটি ফ্রি একসেস পায় বাংলাদেশ। স্বভাবত গণভোটের পর এই নীতি যদি পাল্টায় তাহলে বাংলাদেশের রফতানির একাংশ ঝুঁকিতে পড়বে।
 
অন্যদিকে, যেমনটি বলা হচ্ছে, বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার এই ভোটের ফলাফলে যদি আরেক দফা পড়ে তা থেকে বাংলাদেশের কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। যদিও এই সম্ভাবনা খুবই অনিশ্চিত।
 
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভোটের আগে খোলামেলাভাবেই একপক্ষ নিয়েছিলেন- এবং সে পক্ষ পরাজিত হয়েছে। ব্রিটেনের সম্ভাব্য নতুন সরকার বাংলাদেশের এই অবস্থানকে কীভাবে দেখে সেটাও বিবেচনার বিষয়।
 
ব্রিটেনের অর্থনীতি খারাপ হলে সেদেশের বাংলাদেশীদের বাৎসরিক ৪ বিলিয়ন ডলারের রেস্টুরান্ট ব্যবসায়ও যে তার খানিকটা আঁচ লাগবে সেটাও স্বাভাবিক। আর ওই ব্যবসার লাভের কিছুটা যে দেশেও নানান উপায়ে আসে সেটাতে ভোটের ফল পরোক্ষে হলেও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করবে।
 
তবে গণভোটের সময় দেখা গেছে, বাংলাদেশীদের ‘ক্যাটারিং ইন্ড্রাস্টিজ’ ব্রিটেনকে ইউ ত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের হিসাব হলো এইরূপ ফল মানেই ইউরোপভুক্ত দেশ থেকে কম অভিবাসী আসা এবং হয়তো তাতে ইউ-বহির্ভূত দক্ষিণ এশিয় অভিবাসীদের ভাগ্য ভালো হওয়া!
 
দক্ষ দক্ষিণ এশিয় কর্মীর অভাবে বাংলাদেশীদের অনেকে হোটেল ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন এ খাতের নেতৃবৃন্দ। তাদের প্রত্যাশা সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতি থেকে বাংলাদেশ লাভবান হবে!
 
তবে গণভোটের ফল রক্ষণশীল ইমিগ্রেশন নীতিরই ইঙ্গিত দেয়।যদিও এদেশের সম্পদ বিবেচিত হতো এককালে অভিবাসীরা। ভোটের এই ফলের মাধ্যমে এন্টি-ইমিগ্র্যান্ট সেন্টিমেন্ট নিশ্চিতভাবে অনেক বিকশিত হবে।
 
ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর তাঁর দলের আরও অধিকতর 'জাতীয়তাবাদী'রাই রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবেন এবং তাতে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির সম্ভাবনাই বেশি।
এ সংক্রান্ত সকল খবর
এই পাতার আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদসর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

প্রকাশক: নাহিদা আকতার জাহেদী

১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Powered by orangebd.com

close